বর্তমান বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক জনগণ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল( বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গত ১৫ বছরে ভোটাধিকার লঙ্ঘনের কারণে জনগণ নিপীড়ন ও প্রাণহানির শিকার হয়েছে।
বরিশালে নির্বাচনী প্রচারণাসভায় তারেক বলেছেন, “যারা নিজেদের দেশের মালিক মনে করতেন, তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এখন দেশের নিয়ন্ত্রক জনগণই। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ তাদের প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করবে, যারা জনগনের ইচ্ছা অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে।”
দীর্ঘ দুই দশক পর তারেক রহমান বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে বরিশাল স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে অবতরণ করেন। সেখান থেকে গাড়িতে চেপে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে তিনি সভামঞ্চে পৌঁছান।
তারেক বরিশালে পৌঁছানোর আগেই সকাল ১১টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান।
স্টেডিয়ামের উদ্দেশে যাওয়ার পথে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। মঞ্চে উঠে তিনি হাত নেড়ে লাখো জনতাকে অভিবাদন জানান।
নিজ বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, “শহীদদের প্রত্যাশা অনুযায়ী গণতন্ত্র পুনর্গঠন ও উন্নয়নের মাধ্যমে স্থাপন করতে হবে। জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”
সবাইকে সচেতন হতে এবং সঠিক ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। নারী উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ঘোষণা দিয়ে বলেন, নবী (সা.) এর স্ত্রী খাদিজা (রা:) একজন কর্মজীবী নারী ছিলেন এবং বদরের যুদ্ধে আয়েশা (রা:) সৈনিকদের সেবা দিয়েছেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “নারীদের ঘরে বন্দি রাখলে দেশ এগোবে না।”
এ সময় তিনি বেগম খালেদা জিয়ার নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন।
বরিশালে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে তিনি কয়েকটি উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন-বরিশালে হিমাগার স্থাপন, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে বীজ-সার বিতরণ,১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ, ভোলার গ্যাস ব্যবহার করে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ গ্রহনের কথা বলেন তিনি।
২১ প্রার্থী পরিচিতি ও জনগণের উদ্দেশে বার্তা
ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করে তিনি বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নজর রাখুন, ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে তারা আপনাদের দেখাশোনা করবে।”
সভাস্থলে নেতাকর্মীরা তার বক্তব্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন, যা জনগণের ক্ষমতার গুরুত্ব ও দলের শক্তি স্পষ্ট করে।
সভাপতিত্ব করেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক। সঞ্চালনায় ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহীন।
জনসভায় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ( বীর বিক্রম), চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বরিশাল সদর আসনের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ নেতৃবৃন্দ। সকাল থেকেই বেলস পার্ক ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রের রূপ নেয়।
দলীয় পতাকা, ব্যানার ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে জনসভাস্থল। হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে এলাকা এক বিশাল রাজনৈতিক উৎসবে রূপান্তরিত হয়।
পিএ/টিএ