কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বৈঠক শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানের রাজধানী মাসকটে পরোক্ষ আলোচনায় বসেছেন মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা।
আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, ইরানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জামাতা জারেড কুশনার।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, বৈঠকের লক্ষ্য হল ‘পারমাণবিক ইস্যুতে একটি ন্যায্য, পারস্পরিক সন্তোষজনক এবং সম্মানজনক চুক্তিতে পৌঁছানো’।
তেহরানের স্পষ্ট আপত্তি সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বাইরের বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে রাখার জন্য চাপ দিচ্ছে। তাই আলোচনার প্রকৃত বিষয়গুলো কী তা এখনও অস্পষ্ট।
বৈঠকের আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বলেন, ইরান ‘চোখ খোলা রেখে’ এবং ‘গত এক বছরের অভিজ্ঞতা’ নিয়ে কূটনীতির পথে এগোচ্ছে। এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমরা সৎ উদ্দেশে আলোচনায় বসছি এবং আমাদের অধিকার নিয়ে দৃঢ় থাকব। প্রতিশ্রুতি অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সমান অবস্থান, পারস্পরিক সম্মান এবং পারস্পরিক স্বার্থ– এগুলো কোনো অলংকারপূর্ণ বক্তব্য নয়; এগুলো একটি টেকসই চুক্তির অপরিহার্য ভিত্তি।’
উত্তেজনা কমাতে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই আলোচনাকে। উভয় দেশ এখনও বিপরীতমুখী অবস্থানে থাকলেও আশা করা হচ্ছে, যদি আলোচনা সফল হয়, তাহলে আলোচনার জন্য একটি কাঠামো তৈরি হতে পারে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করা এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ হ্রাস করার দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা বলেছে, আলোচনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি দেশটির সমর্থন এবং নাগরিকদের প্রতি তাদের আচরণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
যদিও ইরান বলেছে যে আলোচনা কেবল তার পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এই মতপার্থক্যগুলো কতটা সমাধান হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।
টিজে/টিকে