সৌকর্য ঘোষাল পরিচালিত জয়া আহসান অভিনীত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘ওসিডি’ আজ মুক্তি পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মুক্তি পেয়েছে জয়া আহসানের ‘ওসিডি’।
সিনেমাটির মুক্তি উপলক্ষে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের এক গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন অভিনেত্রী।
সাক্ষাৎকারে ‘ওসিডি’ নিয়ে জয়ার প্রত্যাশা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ ওসিডি ও পিডোফিলিয়া নিয়ে বাংলাতে কোনো ছবি হয়নি। এই দুটো বিষয়ে ভোকাল হওয়া, বিশেষ করে পিডোফিলিয়ার কথা বলা খুব প্রয়োজন। ছবির মাধ্যমে আমরা এগুলো বলতে চাই। আমি এদেশের দর্শককে খুবই সংবেদনশীল মনে করি। এই জন্য আশাবাদী আর ছবিটা খুবই ভালো হয়েছে।’
সিনেমাতে তার চরিত্র নিয়ে বলেন, ‘আমি একজন ডার্মাটোলজিস্টের চরিত্রে। ছবির টাইটেলে দেখবে ‘ওসিডি’র পর প্রশ্ন চিহ্ন আছে। অর্থাৎ একটা জিজ্ঞাসা আছে। আমার চরিত্রের অভিনয়ের চারটে ধারা রয়েছে। আর থ্রিল এলিমেন্ট তো অবশ্যই আছে, তার সঙ্গে সম্পর্কেরও গল্প। একইসঙ্গে শিশু নির্যাতন প্রসঙ্গে সচেতনতার কথাও বলা হয়েছে। শিশুদের মাধ্যমে যৌন আনন্দ খোঁজার চেষ্টা মানসিক ব্যাধি। ‘মিটু’ নিয়ে কথা বলা হলেও এই বিষয়টা নিয়ে কথা হয় না প্রায়। ছবিতে সেই জায়গাটা ধরা হয়েছে। আর শিশুরাও এখন সচেতন। তাদের গুড টাচ, ব্যাড টাচ শেখানো হয়।’
জয়ার ওসিডি আছে কিনা সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতার ওসিডি যাকে বলে নেই আমার। ফিল্মি ওসিডি আছে। অভিনয় নিয়ে ওসিডি আছে আমার। মানে বার বার করে দেখতে চাই আরেকটু ভালো হয় কি না। তখন পরিচালক হাসির ছলে বলেন, আর করতে হবে না নষ্ট হয়ে যাবে।’
এছাড়াও পরিচালক সৌকর্য ঘোষালের তৃতীয় ছবিতে কাজ করতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জয়া আহসান বলেন, ‘সৌকর্য যে আমাকে ভরসা করে এমন একটা চরিত্র দিয়েছে, এটা বিশাল প্রাপ্তি।’
শিশু নির্যাতনের দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রভাবকে কেন্দ্র করেই ‘ওসিডি’র গল্প এগিয়েছে। সেই সূত্র ধরেই এক নির্যাতিত শিশুর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সিনেমার গল্প সাজানো হয়েছে। ছবিতে শ্বেতা নামের এক চিকিৎসকের ভূমিকায় রয়েছেন জয়া আহসান।
ছবিতে আরও আছেন কৌশিক সেন, শ্রেয়া ভট্টাচার্য, ফজলুর রহমান বাবু, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, অনসূয়া মজুমদার, আর্শিয়া প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ‘ওসিডি’ অর্থাৎ ‘অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজঅর্ডার’ এমন এক মানসিক সমস্যা যা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে এই রোগে আক্রান্ত মানুষকে।
কেএন/টিকে