দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহার ইতিবাচক হলেও যথেষ্ট নয়: সিপিডি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর দেয়া ইশতেহার অনেকটা ইতিবাচক হলেও যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ‘নির্বাচনী এলাকায় সবুজ টেকসই অর্থনীতির চালচিত্র ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, পরিবেশ সুরক্ষায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী–খালখনন ও পুনঃখনন, ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করতে চায় দলটি।
এদিকে, পাঁচ বছরে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২৫ শতাংশ যোগান নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করতে চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সরকারি দফতরের ছাদে সোলার স্থাপন এবং সরকারি গাড়ির ৪০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
শিল্পকারখানাগুলোতে ইটিপি প্ল্যান্ট স্থাপন বাধ্যতামূলক, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দেয়ার কথা বলেছে জামায়াত ইসলামী। শিশু ও বয়স্কদের ফ্রি চিকিৎসা সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। উচ্চশিক্ষা মেয়েদের জন্য ফ্রি করার কথা বলছে জামায়াত। আর কুইক রেন্টাল বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে নতুনত্ব এনেছে রাজনৈতিক দলগুলো। রাস্তাঘাট বা অবকাঠামো উন্নয়নের গৎ বাঁধা প্রতিশ্রুতি থেকে বেরিয়ে এসেছে। তারা সামাজিক উন্নয়নের দিকে নজর দিয়েছে। তবে তাও যথেষ্ট নয়।’
নির্বাচন ও গণভোট ইস্যুতে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্তিমূলক বলা যাচ্ছে না। গণভোটের ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।’
নানা উদ্যোগের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও বাস্তবায়নে অর্থের যোগান আসবে কোথা থেকে, নির্বাচনী ইশতেহারে তার উল্লেখ নেই বলেও মন্তব্য করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক।
অর্থনীতি বাঁচাতে নতুন ব্যাংক অনুমোদন না দিয়ে বরং দুর্বল ব্যাংকগুলো বন্ধ করে দেয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন সরকারকে সে ব্যাপারে নজর দেয়ার অনুরোধ করেছে সিপিডি।
এমআই/এসএন

