সুরের জগতে এক জীবন্ত কিংবদন্তি কে. এস. চিত্রা
ভারতীয় সংগীতজগতে এমন কিছু কণ্ঠ আছে যেগুলো সময়ের সঙ্গে ম্লান হয় না বরং আরও গভীর হয়ে ওঠে। তেমনই এক নাম কে.এস.চিত্রা।
কৃষ্ণন নায়ার শান্তকুমারী চিত্রা ‘দক্ষিণ ভারতের কোকিলকণ্ঠী’ নামে পরিচিত ভারতের সবচেয়ে সম্মানিত প্লেব্যাক শিল্পীদের একজন।
হিন্দি সিনেমায় গাওয়ার আগেই তার মনোমুগ্ধকর কণ্ঠ দক্ষিণে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় যা তাকে তিনটি ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড এনে দেয়।
১৯৮০ এর দশকে মালয়ালম চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার মাধ্যমে শুরু হয় তার ক্যারিয়ার। তার সুমধুর কণ্ঠ অল্প সময়েই কেরালার গণ্ডি পেরিয়ে পুরো ভারতে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
১৯৯১ সালে সালমান খানের সিনেমা ‘লাভ’র জনপ্রিয় গান ‘সাথিয়া তুনে ক্যায়া কিয়া’ তে কণ্ঠ দিয়ে রাতারাতি দর্শক শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন চিত্রা।
এরপরের বছরই জনপ্রিয় হিন্দি ছবি ‘রোজা’র বিখ্যাত গান ‘ইয়ে হাসিন বাদিয়া ইয়ে খুলা আসমান’ এ তার জাদুকরী কণ্ঠ ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।

কে. এস. চিত্রার একটি উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আসে ১৯৯৫ সালের আইকনিক গান ‘কেহনা হ্যায় কেয়া’ দিয়ে। এই গানটি বিশ্বের খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত ‘1000 Songs Everyone Must Hear Before You Die’ তালিকায় স্থান পায়।
১৯৯৭ সালে চিত্রা ‘এক বাগিয়া ম্যায়’, হাম তুম সে না কুছ কেহ পায়ে’র মতো কালজয়ী গান উপহার দেন। ভারাসাত ছবির গান ‘পায়েলে চুনমুন চুনমুন’ গান গেয়ে চতুর্থ জাতীয় পুরস্কার জিতে নেয় তিনি।
১৯৯৯ সালের তার গাওয়া আবেদনময়ী গান ‘দিল মেরে তু দিওয়ানা হ্যায়’ আজও সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে অমলিন।
২০০১ সালের শাহরুখ ও কারিনার হিট ছবি ‘আশোকা’র উত্তাপ ছড়ানো গান ‘রাত কা নাশা’ এখনো সমানভাবে জনপ্রিয়।
‘তুম বিন জিয়া যায় ক্যায়সে’, ‘মেরে দিল কা তুমসে হ্যায় কেহনা’, ‘কই মিল গ্যায়া’, ‘কাসাম কি কাসাম’র মতো একাধিক শ্রুতিমধুর গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।
ইলাইয়ারাজা, এ. আর. রহমান, এম. জয়চন্দ্রন ও বিদ্যাসাগরের মতো প্রখ্যাত সুরকারদের সঙ্গে তার কাজ ভারতীয় সংগীতকে উপহার দিয়েছে বহু কালজয়ী সৃষ্টি।
প্লেব্যাক সংগীত ছাড়াও বিভিন্ন অ্যালবামেও গান গেয়েছেন তিনি। ‘দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কে. এস. চিত্রা রেকর্ড করেছেন ২৫ হাজারেরও বেশি গান। মালয়লাম, তামিল, তেলুগু, কন্নড়, হিন্দি, বাংলা ও ওড়িয়া একাধিক ভাষায় সমান দক্ষতা তাকে পৌঁছে দিয়েছে অনন্য উচ্চতায়।
সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কে. এস. চিত্রা পেয়েছেন ছয়টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, আটটি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস সাউথ এবং কেরালা, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্ণাটক রাজ্য থেকে মোট ৩৫টি রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার। ভারত সরকার তাকে ‘পদ্মশ্রী’ (২০০৫) ও ‘পদ্মভূষণ’ (২০২১) সম্মানে ভূষিত করেছে।
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত এই সংগীতযাত্রায় কে. এস. চিত্রা আজও এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তার কণ্ঠ শুধু বিনোদন নয়, প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা ও আশ্রয়ের নাম।
পিআর/এসএন

