আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা এই বাংলাদেশ: তারেক রহমান
'আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতা বদল নয়, বরং 'দেশ গঠনের নির্বাচন' হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী শহরের বড় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এসময় তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের মানুষ আবারও ভোট দেবেন এবং নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। তবে শুধু ভোট দিলেই চলবে না, এই নির্বাচনকে দেশ গঠনের সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে। আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা এই বাংলাদেশ। দেশটা গড়তে না পারলে আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।
জনসভায় তারেক রহমান নীলফামারীসহ উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, সরকার গঠন করলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি 'তিস্তা মহাপরিকল্পনা' বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হবে। সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ উপজেলাকে শিল্প অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বিশেষ করে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার আধুনিকায়ন ও ভারী শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণের প্রতিশ্রুতি দেন।
সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে পর্যায়ক্রমে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরিত করার ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়া প্রতিটি পরিবারের নারীদের জন্য 'ফ্যামিলি কার্ড' এবং কৃষকদের জন্য 'কৃষি কার্ড' (সার, বীজ ও কীটনাশক সহায়তার জন্য) প্রবর্তনের কথা জানান। নীলফামারী ইপিজেডকে আরও বড় করা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।
অন্য একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, একটি দলকে আমরা খেয়াল করছি, তারা সমাজের মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে ও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, কোনো ভোটারকে ভয় দেখানো হলে বা কারও ওপর অন্যায় করা হলে, আমরা অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুকের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব এ এইচ এম সাইফুল্লাহর সঞ্চালনায় সভায় রংপুর বিভাগীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম ও ভগ্নিপতি মো. রফিকুল ইসলাম।
এসএস/এসএন

