এই বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ নয় : জামায়াতের আমির
ছবি: সংগৃহীত
০৫:০৬ এএম | ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা: শফিকুর রহমান নিজ জন্মস্থান মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় নির্বাচনী সমাবেশে বলেছেন, “২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছাত্র জনতা ও যুবকদের কাছে ঋণী। তাদের কারণে আমরা আজ এসেছি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যুবকদের হাত ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। আপনাদের হাত ধরে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।”
শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার নবীনচন্দ্র (এনসি) উচ্চ বিদ্যালয়ের এই মাঠে ১১দলীয় নির্বাচনী জোটের সমাবেশের ভাষণে এসব কথা বলেন।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা এই বাংলাদেশ চাইনা—যেখানে চাঁদাবাজে অতিষ্ঠ দেশ। যেখানে আমার মায়ের ইজ্জত নেই, যেখানে দূর্নীতিতে ছেয়ে গেছে দেশ।যেখানে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা হয়। এই বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ নয়। এই বাংলাদেশকে তাড়িয়ে দিতে চাই। মনে করতে পারেন তাহলে কেমন বাংলাদেশ হবে? বলতে চাই এই বাংলাদেশই থাকবে, মানচিত্র ঠিক থাকবে শুধু চেহারা পাল্টে দিতে চাই। ১২ তারিখ ৩০০ আসন নির্ধরন করবে আগামীর বাংলাদেশ কোন পথ ধরে চলবে। আমরা মা বোনের নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই, আমরা শ্রমিকদের মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে চাই, আমার কৃষকের বাংলাদেশ গড়তে চাই।”
জামায়াতের আমির আরও বলেন, “এই মৌলভীবাজারের কুলাউড়া আমার জন্মস্থান। আমার এলাকার সকল ধর্ম বর্ণের ভাই বোনদেরকে বুকে আগলে চলতে চাই। আমরা অতিথি হিন্দু, মুসলিম, খাসিয়াসহ সবাই পরস্পরের বন্ধুত্ব আচরণ করেছিলাম এখনও তা করবো।”
“দেশ বিদেশ থেকে অনেকেই জানতে চেয়েছিলেন আমি কুলাউড়া ও ঢাকা নির্বাচন করি। আমি কিন্তু হ্যা করিনি নাও করিনি। সব আসনে ১ জন করে প্রার্থী থাকলেও এই আসনে দুজন প্রার্থী। আমাকে যারা ভালোবাসেন আপনারা অবশ্যই আমার প্রার্থীকে ভালোবাসবেন।”
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ইনশাল্লাহআল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের মতো সিলেট বিমানবন্দরকে করা হবে। কারণ বাংলাদেশের বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সিলেটের মানুষ মহান যুদ্ধের আগে থেকেই বহু অবদান রাখছে।
প্রবাসীদের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, “কোন প্রবাসী যদি প্রবাসে মারা যায় তাহলে যতটাকা খরচ করে প্রবাসে গিয়েছে সেই টাকা উর্পাজন করার আগে প্রবাসে মৃতুবরণ করলে আমরা সেই টাকা গুলো ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহন করবো। তার পরিবারের দায়িত্ব নিবে রাষ্ট্র।”
চা শ্রমিকদের কথা বলে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, “আমি যেখানে যাই তাদেরকে আমি ভুলিনা। কারন চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারে আমার জন্ম, তাদেরকে আমি ভুলতে পারিনা। আমরা তাদের জন্য সুস্বাস্থ্য ও সুশিক্ষা নিশ্চিত করবো। আমরা চাইনা শুধু রাজার ছেলে রাজা হবে রাণীর ছেলে রাণী হবে। আমরা চাই শ্রমিক ভাইয়ের সন্তান মেধাবী হলে আগামীর রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী হবে। আমরা ঐ দেশটাই গড়ে তুলতে চাই। তাদের সন্তানের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের দায়িত্ব কেনো বাগান মালিককে নিতে হবে। আমরা নির্বাচিত হলে তাদের এই দায়িত্ব নেবো।”
ইউটি/টিএ