নোয়াখালীতে ২৬১ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ
ছবি: সংগৃহীত
০৯:২২ এএম | ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৮৭৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৬১টিকে ঝুঁকিপূর্ণ (অতি গুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। তবে জেলার সব ভোটকেন্দ্রই সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হলেও সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা কাটছে না ভোটারদের। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে ভীতি ও সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনসহ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটারদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৮৭৫টি। এর মধ্যে ৬১৪টি সাধারণ এবং ২৬১টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নোয়াখালী-১ আসনে মোট ১৪১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৮৮টি সাধারণ এবং ৫৩টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নোয়াখালী-২ আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১১১টি। এর মধ্যে ৭৩টি সাধারণ এবং ৩৮টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে। নোয়াখালী-৩ আসনে মোট ১৬৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ১০৬টি সাধারণ এবং ৬০টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ছয়টি আসনের মধ্যে সর্বাধিক।
নোয়াখালী-৪ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৯৮টি। এর মধ্যে ১৫৬টি সাধারণ এবং ৪২টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র। নোয়াখালী-৫ আসনে মোট ১৫৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৪টি সাধারণ এবং ৫১টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, নোয়াখালী-৬ আসনে মোট ১০৪টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৮৭টি সাধারণ এবং মাত্র ১৭টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে, যা ছয়টি আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন।
একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছয়টি আসনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনি প্রচারণা জোরদার হলেও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে। ভোটের দিন ও তার আগের দিন সহিংসতার আশঙ্কা করছেন তারা।
নোয়াখালী-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ইসহাক খন্দকার দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, একটি দলের নেতাকর্মীরা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে।বিশেষ করে নারীদের হেনস্থা করছে। এছাড়াও গণসংযোগে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে অনেক এলাকায় শঙ্কা আছে। আমরা নিরপেক্ষ ও কঠোর নিরাপত্তা চাই।
নোয়াখালী-৬ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, হাতিয়ায় পতিত সরকারের সকল লোক নির্দিষ্ট প্রতীকের পক্ষে ভোট করছে। মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে কোনো এজেন্ট থাকবেনা বলে প্রচার করছে। ভোটারসহ আমরা সবাই সঙ্কিত।
একই আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, একটি দলের প্রার্থী আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই আসনে ঝামেলা সৃষ্টি করার চেষ্টা রয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই সুষ্ঠু নিরপেক্ষ অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন।
নির্বাচন নিরাপত্তায় অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নোয়াখালীতে দায়িত্ব পালন করছে ফেনী ৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোশারফ দেশের একটি গণমাধ্যমকে , শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করাই বিজিবির প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স কার্যক্রম চলবে। সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প থেকে রোবাস্ট পেট্রোলিং, চেকপোস্ট স্থাপন ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টিএম মোশাররফ হোসেন দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, নোয়াখালীর হাতিয়ায় নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া অন্যান্য ৫টি আসনেও সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, আনসারসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবেন। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে পারবেন।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, জেলার ছয়টি আসনের ৮৭৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৬১টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রসহ সব ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তা মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।
আরআই/এসএন