© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জাপানের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ, জয়ের পথে তাকাইচির দল

শেয়ার করুন:
জাপানের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ, জয়ের পথে তাকাইচির দল

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:৫৩ পিএম | ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ডাকা আগাম জাতীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, তাকাইচির নেতৃত্বাধীন লিবারাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) বড় জয়ের পথে রয়েছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকাইচি দলীয় নেতা হওয়ার মাত্র চার মাস পরই জনগণের কাছ থেকে স্পষ্ট ম্যান্ডেট চাইতেই এই নির্বাচন ডাকেন।

তার সম্ভাব্য সাফল্য তার দুই পূর্বসূরির সঙ্গে স্পষ্টভাবে বিপরীত, যাদের আমলে দুর্নীতি কেলেঙ্কারি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এলডিপি সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘ সময় ধরে জাপানে এলডিপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় রয়েছে, যার অন্যতম কারণ শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাব।

অনেকে এই নির্বাচনকে ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছিলেন, কারণ এলডিপি সংসদের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল এবং কুমেইতো দলের সঙ্গে তাদের কয়েক দশকের পুরনো জোটও ভেঙে পড়ে।

তবে তাকাইচির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা দলকে সুবিধা এনে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তার সরকারের অনুমোদনের হার বেশিরভাগ সময়ই ৭০ শতাংশের ওপরে ছিল।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের এক জরিপ অনুযায়ী, ৩২৮ আসনের মধ্যে এলডিপি ২৭৪টি আসনে জয় পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিবিসি বলছে, ৩৬ বছর পর প্রথমবারের মতো মধ্য-শীতে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোট দিতে জাপানজুড়ে মানুষ তুষারপাত উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে যান।

দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল পর্যন্ত ৩৭টি ট্রেনলাইন ও ৫৮টি ফেরি রুট বন্ধ ছিল এবং ৫৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। ভোটের দিনে টোকিওতেও বিরল তুষারপাত দেখা যায়।

টোকিওর এক ভোটার রিৎসুকো নিনোমিয়া বিবিসিকে বলেন, মানুষ চায় তাদের জীবন আরও ভালো এবং আরামদায়ক হোক, কারণ আমরা মুদ্রাস্ফীতিতে অভ্যস্ত নই। সবাই খুব উদ্বিগ্ন। আমার মনে হয় স্বল্পমেয়াদি সমাধানের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার।

সম্প্রতি এলডিপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে জাপানের ভোটাররা হতাশ।

রুমি হায়ামা নামে একজন বলেন, বাড়িভাড়া খুব বেশি। আমাদের ছেলে বড় হচ্ছে, আমাদের বড় বাসা দরকার, কিন্তু ভালো চাকরি থাকা সত্ত্বেও তা আমাদের সাধ্যের বাইরে। সবকিছুর দাম বাড়ছে, জাপানে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আগে এমন ছিল না।

তবে তাকাইচির উদ্যম, জনতাবাদী ব্যয় প্রতিশ্রুতি ও জাতীয়তাবাদী বক্তব্য অনেক ভোটারকে উজ্জীবিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি জাপানের স্থবির অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পারবে কি না, তা নিয়ে ব্যবসায়িক মহলসহ সমালোচকরাও সন্দিহান। কারণ উন্নত দেশগুলোর মধ্যে জাপানের সরকারি ঋণ ইতোমধ্যেই অন্যতম সর্বোচ্চ।

পাশাপাশি, অভিবাসন বিষয়ে তার রক্ষণশীল অবস্থান জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে ধীরগতির এবং শ্রমিক সংকটে ভোগা দেশটির জন্য সহায়ক হবে না বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

এমআই/টিএ

মন্তব্য করুন