ভেনেজুয়েলা সফর করবেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট
ছবি: সংগৃহীত
১০:২২ পিএম | ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী নির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ না করে জানিয়েছেন, তেলের বিষয়ে আলোচনা করতে তিনি ভেনেজুয়েলা সফর করবেন। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটনের স্বার্থ কেবল জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। সোমবার মার্কিন গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক ও ক্ষমতাচ্যুত করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কার্যত ভেনেজুয়েলাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, দেশটির বিপুল তেল মজুদের ওপর প্রবেশাধিকার অর্জন এই হস্তক্ষেপের একটি প্রধান লক্ষ্য।
তবে জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল কখনোই দেশটিতে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ‘অর্থবহ কোনো অংশ’ ছিল না। পলিটিকোকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে রাইট বলেন, ‘এটি ছিল একটি ভূরাজনৈতিক সমস্যা, একটি দেশ, যা তার সব প্রতিবেশীর জন্য হুমকি ছিল, পশ্চিম গোলার্ধের জন্য হুমকি ছিল এবং অস্ত্র, মাদক ও অপরাধীদের একটি বিশাল রপ্তানিকারক ছিল।’
তিনি বলেন, দেশটির তেল ‘একটি সুখকর কাকতালীয় ঘটনা, তবে সেটি কেবলই কাকতালীয়।’ ২০১৯ সাল থেকে ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের মোট তেল মজুদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ রয়েছে এবং একসময় দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের বড় অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী ছিল।
তবে ওপেকের তথ্যমতে, দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ঘাটতি, নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের কারণে ২০২৪ সালে দেশটি বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের মাত্র প্রায় এক শতাংশ উৎপাদন করেছে।
রাইটের এই সফরের কোনো তারিখ জানানো হয়নি। এটি হলে মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী আটক করার পর ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে ভেনেজুয়েলা সফরকারী সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা হবেন তিনি। জানুয়ারিতে সামরিক অভিযানের পর ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল ও গ্যাস শিল্প পুনরুজ্জীবিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের তেল কম্পানিগুলো ‘বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার’ বিনিয়োগ করবে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, কারাকাস এসব মুনাফায় অংশীদার হবে। চলতি মাসের শুরুতে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক তেল বিক্রি করতে যাচ্ছি, আমরা কিছু নেব, তারা অনেকটা নেবে এবং তারা খুব ভালো করবে। তারা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি অর্থ উপার্জন করবে, আর সেটি আমাদের জন্যও উপকারী হবে।’
গত মাসে ভেনেজুয়েলার আইনপ্রণেতারা একটি হাইড্রোকার্বন বিলের সংস্কার অনুমোদন করেন, যার মাধ্যমে খাতটিতে বিদেশি বিনিয়োগের ওপর কয়েক দশকের কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা হয়েছে।
এখন বড় চ্যালেঞ্জ হবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং উৎপাদন স্থাপনা পুনর্গঠনে বিপুল ব্যয়ের সম্ভাবনার মধ্যেও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা।
আইকে/টিএ