নির্বাচন ও গণভোটে ৩১৫০ কোটি ব্যয়, যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৫০ এএম | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
দুয়ারে কড়া নাড়ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে বিশাল অঙ্কের বাজেটে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচন ও গণভোটের ব্যয় কতটা যৌক্তিক-তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, গণভোটে ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা খরচ ধরা হলেও মাঠপর্যায়ে এর পূর্ণ বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোট আয়োজনের ব্যাপ্তির তুলনায় ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা খুব বেশি নয়।
মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে আবারও দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে, তবে এবার এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গণভোট। খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকার এই বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশই ব্যয় হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেছনে; যার পরিমাণ ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ১২৩টি দেশের ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটার ভোট দেবেন, যেখানে প্রতিজনের পেছনে খরচ ধরা হয়েছে ৭০০ টাকা করে। সব মিলিয়ে দেশে ভোটার প্রতি মাথাপিছু ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ২৬৪ টাকা। আর যে গণভোটকে ঘিরে এত আয়োজন, তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা।
নির্বাচন কমিশন বলছে, গণভোটের কারণে খরচ বাড়লেও সামগ্রিক আয়োজনের তুলনায় ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা অযৌক্তিক নয়।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচনী ব্যয়, গণভোট, পোস্টাল ব্যালট ও আইটি সাপোর্ট-সবকিছু মিলিয়ে এবারের আয়োজন অনেক বড়। সেই তুলনায় কমিশন ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ব্যয়ই করছে।
গত ২৫ বছরে দেশে নির্বাচনী ব্যয় বেড়েছে ৪৩ গুণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে ব্যালট ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে জনবল নিয়োগ-সবক্ষেত্রেই পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল। ফলে ব্যয় কমানোর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা কাজে লাগানো হয়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, প্রার্থী ও গণভোটের বিষয় একই ব্যালটে রাখা যেত, তাতে খরচ কমত। সৃজনশীলভাবে চিন্তা করলে ব্যয় কমানোর অনেক সুযোগ ছিল, এখনও রয়েছে।
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, সংসদ শুধু শূন্য আসন পূরণের জন্য নয়; এটি হতে হবে জনআস্থা ও জবাবদিহিতার প্রতীক। দেশবাসীর হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্বাচিত পরবর্তী সরকারকে সফল হতে হবে এবং নতুন বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
পিএ/টিকে