© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইসির ৮২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞায় পর্যটকশূন্য কক্সবাজার

শেয়ার করুন:
ইসির ৮২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞায় পর্যটকশূন্য কক্সবাজার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৪৪ এএম | ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জারি করা ৮২ ঘণ্টার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় কার্যত পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে কক্সবাজার। নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে কোনো ব্যক্তি নিজ এলাকার বাইরে অবস্থান করতে পারবে না। এই সিদ্ধান্তের সরাসরি ও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে পর্যটননির্ভর কক্সবাজারে, সেখানে হোটেল-মোটেল থেকে শুরু করে সৈকত—সবকিছুই যেন থমকে গেছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞা ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। নির্বাচন নির্বিঘ্ন করার স্বার্থে পর্যটন এলাকার প্রত্যেক হোটেল-মোটেলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে যাতে কোনো পর্যটককে হোটেল-মোটেলের কোনো কক্ষ ভাড়া দেওয়া না হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী পয়েন্টসহ প্রধান সব পর্যটনকেন্দ্র ছিল একেবারে ফাঁকা।

যে সৈকত বছরের বেশির ভাগ সময় পর্যটকের ভিড় ও কোলাহলে মুখর থাকে, সেখানে এদিন দেখা গেছে নীরবতা ও শূন্যতা। সৈকতে যাদের দেখা মিলেছে, তাদের বেশির ভাগই স্থানীয় বাসিন্দা।

খুরুশকুলের বাসিন্দা শাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘সাধারণ সময়ে সৈকতে পা রাখার জায়গা থাকে না। আজ সৈকত দেখে মনে হচ্ছে যেন অন্য কোনো জায়গা।

কলাতলী পয়েন্টে দেখা যায় কলেজপড়ুয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীকে। তাঁদের একজন জয়ন্তী দাশ বলেন, ‘বছরের বেশির ভাগ সময় সৈকতজুড়ে মানুষের কোলাহল লেগেই থাকে। কিন্তু নির্বাচনের কারণে আজ সৈকত প্রায় জনশূন্য। এমন মুক্ত ও নিরিবিলি পরিবেশ খুব কমই দেখা যায়। এই পরিবেশ উপভোগ করতেই আমরা ছুটে এসেছি।


হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকেই বুকিং বাতিল হতে শুরু করে। এতে দৈনিক লাখ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে পর্যটননির্ভর এই শহর। পরিবহন, রেস্টুরেন্ট, বিচ ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও একই সংকটে পড়েছেন।


টিজে/টিএ

মন্তব্য করুন