‘সৌদির পরমাণু অস্ত্র আছে’, দাবি ইরানের সাবেক কমান্ডারের
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৩৪ পিএম | ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সৌদি আরবের পরমাণু অস্ত্র আছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল বলে দাবি করেছেন ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সাবেক কমান্ডার হুসেইন কানানি।
গতকাল মঙ্গলবার রুশ টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যম রাশিয়া টুডে (আরটি)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুসেইন কানানি বলেন, “আমি নিশ্চিত করে বলছি যে সৌদি আরবের পরমাণু অস্ত্র আছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। এমনকি ইসরায়েলও এই ব্যাপারটি জানে।”
সম্প্রতি ইরানে যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হলো, সেই বিক্ষোভে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা আড়াল থেকে সবরকমভাবে বিক্ষোভ জারি রাখতে সহায়তা করেছে উল্লেখ করে কানানি আরও বলেন, “তাদের লক্ষ্য শুধু ইরানের সরকার পতন নয়, বরং ইরানকে পুরোপুরি ভেঙেচুরে ফেলা এবং উদ্ভুত পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়া।”
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে প্রায় দু’যুগ ধরে তেহরানের সঙ্গে উত্তজনা চলছে ওয়াশিংটনের। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এ উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। তার ধারাবাকিতাতেই ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান-ইসরায়েলের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। তারপর থেকে যুদ্ধবিরতি চললেও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর্যায়ে নেই এখনও।
এর মধ্যে গত ডিসেম্বরে ইরানে ব্যাপকমাত্রায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর ফের যুক্তিরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকে। ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রী সরকার নিষ্ঠুরভাবে বিক্ষোভ দমন করা শুরু করার পর ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত গত জানুয়ারির মাঝামাঝি বিক্ষোভ শান্ত হয়েছে ইরানে, ট্রাম্পও আর অভিযানের নির্দেশ দেননি।
তবে একই সময়ে, অর্থাৎ গত জানুয়ারির মাঝামাঝি আরব সাগরের মধ্যপ্রাচ্য অংশে নিজেদের বিশাল আকৃতির বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বেশ কয়েকটি রণতরী মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র।
বর্তমানে আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের ৫টি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত রণতরী টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে।
এই ব্যাপারটি ইরানের জন্য অস্বস্তিকর। কারণ, গত জুন মাসেও এ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধি দলের বৈঠকের মধ্যেই ইরানে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল এবং পরে তাতে যোগ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রও।
তবে সেবার ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রস্তুত না থাকলেও এবার চিত্র ভিন্ন। আরব সাগরে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের আগমনের পরদিনই হরমুজ প্রণালী এলাকায় সামরিক মহড়ার ঘোষণা দেয় ইরান। ওই এলাকার আকাশসীমায় উড়োজাহাজ চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা দেয়।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইরান রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ভূখণ্ডে হামলা করে- তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে ইরান।
আইআরজিসি এই বিবৃতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কাতারের আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটিতে মোবাইল মিসাইল লাঞ্চার মোতায়েনের করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে হুসেইন কানানি দাবি করেছেন যে যুদ্ধ যদি বেঁধেই যায়, তাহলে প্রাথমিকভাবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা করবে না ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী।
তিনি বলেছেন, “যদি ওয়াশিংটন হামলা করে, তাহলে সম্ভবত প্রথম পর্যায়ে তেহরান সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলোতে হামলা চলাবে না। তার চেয়ে বরং ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী।”
“যুক্তরাষ্ট্র আসলে মুরগির খেলা খেলছে। তারা জানে না যে এই খেলায় ইরান তাদের চেয়ে ১০ ধাপ এগিয়ে আছে”, আরটিকে বলেন কানানি।
সূত্র : আরটি
এমআই/এসএন