© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা বিশ্ব মিডিয়াতেও

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা বিশ্ব মিডিয়াতেও

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:৫৪ এএম | ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রায় ১৭ মাস পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রাষ্ট্র সংস্কার বিষয়ক গণভোট।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে, যেখানে উঠে এসেছে তরুণ ভোটারদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক সমীকরণ এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার চিত্র।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের চাহিদাকেই মুখ্য হিসেবে তুলে ধরেছে। তাদের মতে, এবারের নির্বাচনে তরুণদের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে রয়েছে কর্মসংস্থান, সুশাসন এবং ভয়ভীতিহীন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে অর্থনীতির চাকা, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পকে সচল রাখতে এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ফলাফলের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ২০০৯ সালের পর একেই দেশটির প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে আখ্যায়িত করা হলেও, নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।


এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি ও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমস তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণের ওপর আলোকপাত করেছে। নির্বাচন কমিশন আশা প্রকাশ করেছে যে, দীর্ঘ দেড় দশকের একদলীয় শাসনের অবসানের পর এবারের নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে বিশ ও ত্রিশের কোঠায় থাকা বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী, যারা বিগত শাসনামলে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন, তারা এবার দেশের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা নির্বাচনে নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারবেন।

নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জার্মানিভিত্তিক ডয়চে ভেলে। তাদের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্য যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে ভিন্ন। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে একটি ইসলামপন্থী দল শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর ইসলামপন্থী শক্তিগুলোর এমন সুসংহত নির্বাচনী অবস্থান দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতে নতুন এক অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা ও দ্য হিন্দু। প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটারের এই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। নির্বাচনের অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্রকে 'ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এসব কেন্দ্রের নব্বই শতাংশেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এক লাখ ৫৭ হাজার পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি এক লাখ সেনাসদস্য এবং অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকার পুলিশ সদস্যদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

টিজে/টিএ 

মন্তব্য করুন