© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বাগেরহাটের শরণখোলায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ১৫

শেয়ার করুন:
বাগেরহাটের শরণখোলায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ১৫

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৩৩ পিএম | ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বাগেরহাটের শরণখোলার একটি ভোটকেন্দ্র এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের দুই নারীসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। 

আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের ৩৪ নম্বর সোনাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রসংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।

আহতরা হলেন জামায়াত সমর্থিত সাব্বির (২৪), আরিফ (২৩), তরিকুল (২৮), হাফিজুর (৩২), সাইফুল (২৭), সোবাহান (৩০), কামরুল (৩৫), নাজমা বেগম (৫০), ফরিদা বেগম (৫২) ও নাজমুল (২৬)।

এ ছাড়া আহত বিএনপি সমর্থকরা হলেন সিদ্দিক (৪০), বাদল (২৯), রফিকুল (২৮), মিজান (৩২) ও ফারুক (৪৮)। তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সোনাতলা ভোটকেন্দ্র থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরত্বে প্রথমে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ভোট দিতে যাওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এতে উভয় পক্ষের নারীসহ ১৫ জন আহত হন।

এ ব্যাপারে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির বলেন, আমাদের ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রে রওনা হন। তারা সোনাতলা গ্রামের হাবিব মাস্টারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে  সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা বিএনপির ২০ থেকে ২৫ জন কর্মী-সমর্থক লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের (জামায়াত) নারী-পুরুষ ভোটারদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের দুই নারী ভোটারসহ ১০ জন আহত হন।

এছাড়া আমাদের ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দিচ্ছে বিএনপি। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

অপরদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত বলেন, ভোট দিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের ভোটারদের মধ্যে একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। এতে আমাদের দলের (বিএনপি) পাঁচজন আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষে বসে মীমাংসা করা হবে।

জামায়াতের ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার বিষয়টি ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে বিএনপির সভাপতি আনোয়ার পঞ্চায়েত আরো বলেন, সোনাতলা গ্রামের এই বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া উপজেলার সমস্ত কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। ভোটারের উপিস্থিতিও ভালো। আর কোথাও যাতে এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা না ঘটে সেব্যাপারে আমাদের নেতাকর্মীদের সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিশ্বজিৎ মজুমদার বলেন, নির্বাচনী সংঘর্ষে আহত হয়ে ১৫ জন হাসপাতালে আসেন। এদের মধ্যে ১০ জনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

শরণখোলা থানার ওসি মো. সামিনুল হক বলেন, সকালে সোনাতলা কেন্দ্র থেকে আধা কিলোমিটার দূরত্বে বিএনপি-জামায়াতের দুই পক্ষের ভোটারদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছি। এতে ভোট প্রদান বা কেন্দ্রে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়েনি। শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ চলছে। সংঘর্ষের ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এমআই/টিএ

মন্তব্য করুন