রংপুরে বেসরকারি ফলে ৪টি আসনে জামায়াতের জয়
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৫৫ পিএম | ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে জামায়াতে ইসলামী। জেলার চারটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে দলটির প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট দলীয় ও নির্বাচনী সূত্র নিশ্চিত করেছে। ভোট গণনার প্রাথমিক ফলাফলে এসব আসনে জামায়াত প্রার্থীদের স্পষ্ট এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রয়ারি) রাতে ফলাফলে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফল অনুযায়ী, রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনে মো. রায়হান সিরাজী, রংপুর-২ (বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ) আসনে এটিএম আজহারুল ইসলাম, রংপুর-৩ (সদর) আসনে মো. মাহবুবুর রহমান এবং রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. গোলাম রাব্বানী জয়ী হয়েছেন।
ভোটের দিন সকাল থেকেই এসব আসনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘ সময় পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের সুযোগ পেয়ে সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভিড় করেন।
বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। অনেক ভোটার জানিয়েছেন, তারা পরিবর্তনের প্রত্যাশা থেকেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
রংপুর-১ গংগাচড়া আসনে মো. রায়হান সিরাজী শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন। স্থানীয়ভাবে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি ভোটারদের আস্থা অর্জন করেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ভোট গণনার শেষ পর্যায়ে তার ব্যবধান আরো বাড়ে।
রংপুর-২ বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ আসনে এটিএম আজহারুল ইসলাম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে জয় পান।
এই আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি উন্নয়ন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের কথা তুলে ধরেন, যা ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলে।
রংপুর-৩ সদর আসনে মো. মাহবুবুর রহমানের জয়কে অনেকেই ‘অপ্রত্যাশিত নয়’ বলে মন্তব্য করছেন। নগর ও শহরতলীর ভোটারদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা আগে থেকেই ছিল।
নির্বাচনের দিন শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকায় ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরেছেন।
অন্যদিকে, রংপুর-৫ মিঠাপুকুর আসনে রংপুর জেলা জামায়াতের আমির মো. গোলাম রাব্বানীর জয় দলটির জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কাজ ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার ফল হিসেবেই এই বিজয় এসেছে বলে দাবি করছেন দলীয় নেতারা।
জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বলছেন, এই ফলাফল জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তারা অভিযোগ করেন, নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করেছেন। একই সঙ্গে তারা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এখনো আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে রংপুরের চারটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রংপুরে এই ফলাফল আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে এটি একটি নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এমআই/টিএ