ভোট দেয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা
ছবি: সংগৃহীত
১০:২৭ পিএম | ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্বামীর নিষেধ অমান্য করে ভোট দেয়ায় ফেনীতে বিবি জহুরা নামের এক গৃহবধূকে তালাক দিয়েছেন এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর বাঁশতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত স্বামীর নাম ইসমাইল হোসেন কাওসার। তিনি ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এবং ওই এলাকার মৃত ইউসূফ হাজারীর ছেলে।
এ ঘটনায় জনতার তোপের মুখে পালিয়ে গেছেন কাওসার। এর আগে ঘটনার পরপর স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে স্ত্রীকে দেয়া মৌখিক তালাক ফিরিয়ে নেবেন, এমন কথা বলে কৌশলে তিনি পালিয়ে যান।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী সূত্র জানায়, বুধবার বিকেলে স্ত্রী জহুরাকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেন স্বামী কাওসার। কিন্তু জহুরা প্রথমবারের মতো ভোটার হওয়ায় উৎসাহ নিয়ে তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন। ওই সময় কাওসার ঘুমে ছিলেন। ভোট দিয়ে সকাল ১০টায় ঘরে ফিরে তিনি স্বামীসহ সবার জন্য নাস্তা বানান। কাওসার ঘুম থেকে উঠে ১১টার দিকে নাস্তা খেয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা করেন। এরপর দুপুরে ভাত খেয়ে আবারও ঘুমিয়ে পড়েন।
বিকেলে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির পাশের রাস্তায় গিয়ে অন্যদের মাধ্যমে জানতে পারেন তার স্ত্রী ভোট দিতে কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। এ খবর শুনে মাগরিবের সময় স্ত্রীকে ভোটের বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন তিনি। জহুরা তার জীবনের প্রথম ভোট দেয়ার কথা স্বীকার করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির পাশের রাস্তায় জহুরাকে মৌখিক তিন তালাক দেন কাওসার। এ সময় স্ত্রীকে তার ঘরে যেতেও নিষেধ করেন।
এ ঘটনায় আশপাশের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে কাওসারকে আটক করে মারধর করে। একপর্যায়ে জনসমাগম বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কৌশলে পালিয়ে যান তিনি।
২০১৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াই বাজার এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে বিবি জহুরার সঙ্গে বিয়ে হয় কাওসারের। তাদের সংসারে আবদুল আলিম শুভ (১২), সাবিনা আফরিস ইভানা (৮) ও ইসরাত জাহান ইসমাত (৪) নামে তিন সন্তান রয়েছে। বাবার পরিবার অসচ্ছল হওয়ায় সন্তানদের কথা বিবেচনা করে জহুরা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান।
নুরুল আফছার নামে এক প্রতিবেশী জানান, বিয়ের পর থেকেই জহুরাকে মারধর করতেন কাওসার। এ নিয়ে কয়েকবার সামাজিকভাবে বিচার-সালিশও হয়েছে। আলী আহম্মদ নামে আরেকজন জানান, কাওসার তার শ্বশুরকেও কয়েকবার মারধর করেছেন।
স্থানীয় সালিশদার মোহাম্মদ আজাদ জানান, কয়েকবার বিচারে তিনি উপস্থিত ছিলেন। কাওসার উগ্র প্রকৃতির লোক। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে মানুষকে জিম্মি করে রাখত।
এদিকে এ ঘটনার পর বিবি জহুরাকে ঘিরে এলাকায় ভিড় করছে মানুষ। অন্যদিকে তিন সন্তান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ওই গৃহবধূ।
এমআই/টিএ