© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দীর্ঘ ১৮ বছর পর সংসদ নির্বাচনে জয়ের মুখ দেখল হাতপাখা

শেয়ার করুন:
দীর্ঘ ১৮ বছর পর সংসদ নির্বাচনে জয়ের মুখ দেখল হাতপাখা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:৪১ এএম | ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
দীর্ঘ ১৮ বছর পর সংসদ নির্বাচনে জয়ের মুখ দেখল হাতপাখা প্রতীক। অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে চার হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে বরগুনা-১ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী অলি উল্লাহ জয়ী হয়েছেন। মাওলানা হোসাইন মোহাম্মদ অলি উল্লাহ গোটা দ‌ক্ষিণাঞ্চ‌লে কেওড়াবুনিয়ার পীর না‌মে প‌রি‌চিত।

বরগুনার এই আসনেই প্রথমবার হাতপাখা প্রতীকের কোনো প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।

শুধু তা-ই নয়, ২৫৩টি আসনের মধ্যে এটিই একমাত্র আসন যেখানে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জয় পেলেন। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম দলটির কোনো প্রার্থীর সংসদে যা‌চ্ছে।

আমতলী, তালতলী ও বরগুনা সদর উপজেলা মিলিয়ে ভোটের ফল ছিল টানটান। আমতলীর ৬৫টি কেন্দ্রে হাতপাখা প্রতীকে ভোট পড়েছে ৫৫ হাজার ৪৭৫টি।

সেখানে ধানের শীষ পেয়েছে ৪১ হাজার ৩৮২ ভোট। তবে তালতলীর ৩০টি কেন্দ্রের চিত্র উল্টো। সেখানে ধানের শীষের ঝুলিতে ২৮ হাজার ২৬০ ভোট, আর হাতপাখা পেয়েছে ২০ হাজার ৬৪৫।

বরগুনা সদর উপজেলার ৯৫টি কেন্দ্রে দুই প্রতীকের লড়াই ছিল প্রায় সমান।

ধানের শীষ পেয়েছে ৬৩ হাজার ৬৯৫ ভোট, হাতপাখা পেয়েছে ৬২ হাজার ৩৯২।

সব কেন্দ্রের ফল যোগ করলে হাতপাখার মোট ভোট দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫১২। ধানের শীষ পেয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩৬ ভোট। ব্যবধান ৪ হাজার ১৭৫।

এই ফলাফলকে জেলার রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

দীর্ঘদিন ইসলামী আন্দোলনের উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত থাকা কেওড়াবুনিয়ার পীর অলি উল্লাহর এই এগিয়ে যাওয়া দলটির জন্য যেমন একটি মাইলফলক, তেমনই বরগুনা-১ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

১৮ বছর পর হাতপাখার জয়

ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম জানান, দলটির সূচনা হয়েছিল ১৯৮৭ সালের ১৩ মার্চ। সে সময় বিভিন্ন ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে একটি ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন হিসেবে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের জন্ম।

পরবর্তীকালে মতভেদ ও বিভক্তির প্রেক্ষাপটে এটি পীর সাহেব চরমোনাই সৈয়দ ফজলুল করিমের নেতৃত্বে একটি পৃথক রাজনৈতিক দলে রূপ নেয়। ১৯৯১ সাল থেকে দলটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে সক্রিয় হয়।

এরপর ২০০৮ সালে নাম পরিবর্তন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নামে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হয় এবং হাতপাখা প্রতীক পায়।

এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। তবে অনানুষ্ঠানিক ফলই বলে দিচ্ছে, বরগুনা-১ আসনে লেখা হয়ে গেছে নতুন রাজনৈতিক ইতিহাস।

এসকে/টিএ

মন্তব্য করুন