© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিশ্বগণমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কী বলা হলো?

শেয়ার করুন:
বিশ্বগণমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কী বলা হলো?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৩৪ এএম | ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
‘বাংলাদেশের নির্বাচনি হাওয়াটা এবার আলাদাই মনে হচ্ছে। পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলের চেয়ে এবারের নির্বাচনি পরিবেশ একেবারেই ভিন্ন’, সদ্যসমাপ্ত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সঙ্গে নিজের পূর্ব-অভিজ্ঞতা মিলিয়ে এমন তুলণামূলক মন্তব্যই করেছেন বিবিসির যোগিতা লিমায়ে। বিশ্বের প্রায় সব গণমাধ্যমেই এদিন মধ্যমণি হয়ে ওঠে বাংলাদেশের নির্বাচন।

বিবিসির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ওই সংবাদদাতা আরও বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় আমি বাংলাদেশে ছিলাম। তখন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় ছিলেন। তখনকার (নির্বাচনি) পরিবেশ এখনকার থেকে একেবারেই ভিন্ন ছিল। ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর সময় দেখেছিলাম, ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট, প্রচারসামগ্রী ও পোস্টার প্রায় একটিমাত্র দল- শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের। একধরনের সীমাবদ্ধ পরিবেশ ছিল। আমরা যখন মানুষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করতাম, তারা খোলাখুলি কথা বলতে ভয় পেতেন।

আমরা যেসব ভোটারের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের অনেকের মধ্যেই স্পষ্ট উত্তেজনা ও প্রত্যাশা রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোস্টার চোখে পড়ছে। অবশ্যই এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ, যা ভোটটি সত্যিই অবাধ ও সুষ্ঠু কি না, সে প্রশ্নে একটি ছায়া ফেলেছে। গোপালগঞ্জে, যা আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত, আমাদের এক সহকর্মী জানিয়েছেন বৃহস্পতিবার সকালে ভোটকেন্দ্রগুলো প্রায় ফাঁকাই ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারও বাড়তে থাকে। বিবিসির অন্য এক রিপোর্টে বলা হয়, নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ ঘাঁটি গোপালগঞ্জের ভোটকেন্দ্রগুলোয় ভোটার উপস্থিতি খুবই কম ছিল।

নির্বাচন নিয়ে লাইভ আপডেট দিচ্ছে ভারতের একাধিক গণমাধ্যম। এর মধ্যে এনডিটিভির খবরে বলা হয়, এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে। অতীতের এক বিস্ময়কর রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ করে জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমান এতে অংশ নিয়েছেন। ৬০ বছর বয়সি বিএনপির এই নেতা প্রায় ১৭ বছর নির্বাসন থেকে দেশে ফেরেন গেল ডিসেম্বরে।

এছাড়া ‘বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু’ শিরোনামে লাইভ আপডেট দিচ্ছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু। এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের জন্য অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, এসব কেন্দ্রের ৯০ শতাংশে সিসিটিভি নজরদারি থাকবে। ঢাকায় মোতায়েন থাকা অনেক পুলিশ সদস্য বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন।

এদিকে ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে ‘অগ্রাধিকার’ দেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সেই সঙ্গে নয়াদিল্লি সফরের ব্যাপারেও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। সেই সঙ্গে জামায়াত আমির বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা সমান এবং এখানে সংখ্যালঘু বলে কোনো কিছু নেই।’

এনডিটিভিকে তিনি বলেন, ‘ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। আমরা ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই এবং এটাকে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’

‘বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে ইসলামপন্থিদের প্রভাব বাড়ছে’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জার্মানিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে। এতে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্র“য়ারি বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্য যে কোনো নির্বাচনের মতো নয়। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জোট করে একটি ইসলামপন্থি দল শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে উঠে এসেছে।

ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো ইসলামপন্থি শক্তিগুলো তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী নির্বাচনি উপস্থিতি দেখাতে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে। এটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশার নতুন রূপ তৈরি করছে।

এমকে/টিকে

মন্তব্য করুন