কর্মক্ষেত্রে সুস্থ থাকার জন্য যুক্তরাজ্যে নতুন উদ্যোগ
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৫১ এএম | ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে এখন এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। অফিস ভবনের ছাদ, আঙিনা কিংবা পার্কিং এলাকায় বসানো হচ্ছে মৌচাক। লাঞ্চ ব্রেকের সময় কিছুসংখ্যক কর্মী সুরক্ষা পোশাক পরে মৌচাকের পাশে দাঁড়ান, মৌমাছি পর্যবেক্ষণ করেন, এমনকি মৌ চাষ শেখেন।
ম্যানচেস্টার থেকে লন্ডনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কর্মীদের মানসিক চাপ কমাতে এবং প্রকৃতির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে। হাইব্রিড কাজের পরিবেশ এবং দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে থাকার কারণে যে ক্লান্তি তৈরি হয়, তা মোকাবিলা করার জন্য একটি উপায় হিসেবে মৌ চাষ করা হচ্ছে।
বাকলিস বিস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান করপোরেট অফিসে মৌচাক বসানোর কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী এমা বাকলি জানান, যুক্তরাজ্যে তাঁদের প্রায় ২৪টি করপোরেট ক্লায়েন্ট রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আছে আরও ১০টির বেশি। চাহিদা দ্রুত বাড়ার কারণে নতুন কর্মী নিয়োগ দিতে হচ্ছে তাঁদের। দুপুরের কর্মশালায় কর্মীরা মৌ চাষ শেখেন। কিছু অফিসে মৌচাকের ভেতরে ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যাতে কর্মীরা ডেস্কে বসেই মৌমাছির কার্যক্রম দেখতে পারেন। একটি প্রতিষ্ঠান তাদের বিশ্রামকক্ষে মৌচাকের লাইভ স্ট্রিমও চালু করেছে।
বিস ম্যাক্স লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক গেইল জানান, অফিসে মৌ চাষ কর্মীদের জন্য এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা। কর্মীরা একসঙ্গে মৌচাকের যত্ন নেন, যা তাঁদের মধ্যে সহযোগিতা এবং দায়িত্ববোধ তৈরি করে। লন্ডনের কয়েকটি অফিস ভবনেও মৌচাক বসানো হয়েছে। ভবন ব্যবস্থাপকদের মতে, এটি কর্মীদের কাছে স্মরণীয় একটি উদ্যোগ। প্রচলিত অফিস সুবিধার তুলনায় এটি বেশি অর্থবহ বলে অনেকে মনে করছেন।
গ্রিন ফোক রিক্রুটমেন্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা ক্রিস পেইন বছরে দুবার কর্মীদের মৌ চাষ শেখাতে নিয়ে যান। ভবিষ্যতে নিজেদের অফিসে মৌচাক বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। ক্রিস জানিয়েছেন, মৌচাক থেকে দলগত কাজ ও লক্ষ্যভিত্তিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা পাওয়া যায়। চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে মৌ চাষ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণকালীন নতুন কর্মী নিয়োগ করছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, মূলত মুখে মুখে এই সেবা ছড়িয়ে পড়ছে।
পরিবেশবিদদের একটি অংশ অবশ্য সতর্ক করছেন। শহরে অতিরিক্ত মৌচাক বসানো হলে স্থানীয় বন্য মৌমাছি ও অন্যান্য পরাগবাহীর ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। সীমিত সবুজ এলাকায় খাদ্যের সংকট
দেখা দিতে পারে। তবে হাই-ফাইভ ম্যানচেস্টারের প্রতিষ্ঠাতা ড্যামসন ট্রেগাস্কিস জানিয়েছেন, কিছু প্রতিষ্ঠানের পরিবেশবান্ধব ভাবমূর্তি গড়ার আগ্রহ দেখায়। তবে সচেতনভাবে পরিকল্পনা করা হলে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি সম্ভব।
যুক্তরাজ্যে অফিসভিত্তিক মৌ চাষের এই প্রবণতা মূলত দুই লক্ষ্য সামনে রেখে এগোচ্ছে—কর্মীদের মানসিক সুস্থতা এবং পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা। মৌমাছির গুঞ্জন হয়তো অফিসের সব সমস্যা সমাধান করে না, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে প্রকৃতির ছোঁয়া এনে দেয়। ফলে এটি অনেক প্রতিষ্ঠানের কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
এসএস/টিএ