শিল্পী সংগঠনে রাজনীতির স্থান নেই, দাবি ২ অভিনেতার
ছবি: সংগৃহীত
১০:০১ এএম | ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
টালিগঞ্জের শিল্পী সংগঠনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের আবহ তৈরি হলেও সেটিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সংগঠনের দুই মুখ্য সদস্য ভরত কল ও দেবদূত ঘোষ। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, শিল্পীদের এই মঞ্চে দলীয় রাজনীতির কোনো স্থান নেই; এখানে সবাই কেবল শিল্পী পরিচয়েই একত্রিত হন।
সম্প্রতি ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার্স আর্টিস্ট ফোরাম–এর বাৎসরিক নির্বাচনকে ঘিরে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ওঠে, এই ফলাফল নাকি রাজ্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। তবে সংগঠনের নবনিযুক্ত সহ–সম্পাদক দেবদূত ঘোষ এবং সহ–সভাপতি ভরত কল উভয়েই এই ব্যাখ্যাকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
ভরত কল বলেন, শিল্পীদের সংগঠনে কে কোন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করেন, তা কখনো আলোচনার বিষয় ছিল না। হঠাৎ করে এ ধরনের বিতর্ক কেন তৈরি হলো, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সংগঠনে বিভিন্ন মত ও পথের মানুষ থাকলেও কাজের ক্ষেত্রে সবাই সমান মর্যাদা পান।

অন্যদিকে দেবদূত ঘোষও একই সুরে জানান, কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এ বিষয়ে মন্তব্য না করা পর্যন্ত এ ধরনের জল্পনায় গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন দেখেন না তিনি। তাঁর মতে, শিল্পীদের সংগঠনকে রাজনৈতিক রঙে দেখার প্রবণতা অযৌক্তিক এবং এটি শিল্পচর্চার পরিবেশ নষ্ট করতে পারে।
এই প্রসঙ্গে বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা উত্তম কুমার–এর একটি পুরোনো বক্তব্যও তুলে ধরেন দেবদূত। তিনি বলেন, টালিগঞ্জে প্রবেশের আগে শিল্পীদের উচিত রাজনীতির বিভাজন বাইরে রেখে আসা। সেই আদর্শ মেনেই শিল্পীরা স্টুডিও প্রাঙ্গণে পা রাখেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংগঠনের সদস্যসংখ্যা সীমিত হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, শিল্পী সংগঠনের নির্বাচনকে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণের সঙ্গে যুক্ত করা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
এমকে/টিকে