নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে, যমুনা নাকি ফরেন সার্ভিস?
ছবি: সংগৃহীত
১১:৩৬ পিএম | ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১১টি আসনে জয় পেয়ে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার পর নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। দু-একদিনের মধ্যেই নতুন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের জন্য সরকারি বাসভবন নির্ধারিত থাকলেও নতুন প্রধানমন্ত্রী কোন ভবনে উঠবেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, মন্ত্রীদের জন্য বেইলি রোডের মন্ত্রিপাড়া এবং সংসদ সদস্যদের জন্য মিরপুর, নাখালপাড়া এবং মানিক মিয়া এ্যাভিনিউয়ের ন্যাম ভবন প্রস্তুত করা হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর ও গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক বাসভবন হিসেবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ অথবা ‘ফরেন সার্ভিস একাডেমি’র নাম আলোচনায় রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, “নতুন প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতৃত্ব সরকার গঠনের পরই প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী এটি চূড়ান্ত হবে।”
বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই ভবনটি ছেড়ে দেবেন তার গুলশানের বাসভবনে ফিরে যাবেন। সেক্ষেত্রে যমুনা হতে পারে নতুন প্রধানমন্ত্রীর অস্থায়ী ঠিকানা। অন্য একটি সম্ভাবনা হলো বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমি (সাবেক রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধা)।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের প্রেস শাখার একজন কর্মকর্তা দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া একসময় ফরেন সার্ভিস একাডেমিকে বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী চাইলে তার পছন্দ ও অভিপ্রায় অনুযায়ী এটি ব্যবহার করতে পারেন।” সেক্ষেত্রে একাডেমির কার্যক্রম অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, বিকল্প হিসেবে সংসদ ভবন সংলগ্ন স্পিকারের বাসভবনকেও প্রধানমন্ত্রীর বাসস্থান হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী চাইলে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনকে যুক্ত করে একটি কমপ্লেক্স তৈরি করা হতে পারে। তবে সবকিছুই নির্ভর করবে নতুন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর।”
বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময় শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে গণভবন ব্যবহার করতেন।
তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরিত করায় সেখানে আর নতুন প্রধানমন্ত্রীর বসবাসের সুযোগ নেই।
নতুন বাসভবন নির্মাণের পরিকল্পনা
গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর স্থায়ী বাসভবন নির্মাণের একটি প্রাথমিক প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নতুন বাসভবনের জন্য গণভবনের পাশেই স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে একটি আধুনিক ভবন নির্মাণ করতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। এই অন্তর্বর্তী সময়টুকুর জন্য যমুনা বা স্পিকারের বাসভবনই হতে পারে মূল ভরসা।
অতিথি ভবন থেকে গণভবন
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের সময়ে গণভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৫ সালে গণভবনকে সংস্কার করে এটিকে ‘করতোয়া’ নাম দিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন করা হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা। তখন তিনি গণভবন নাম পুনর্বহাল করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসাবে সেখানে বসবাস করেন। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কখনও গণভবনে থাকেননি।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসার পর গণভবন আবার সংস্কার করা হয়। ২০১০ সালের মার্চে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবার এখানে ওঠেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পালিয়ে দেশত্যাগ করার আগমুহুর্ত পর্যন্ত তিনি এই ভবনে ছিলেন।
ইউটী/টিএ