© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জিয়াউর রহমানের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছেলে কী হবেন তারেক রহমানের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী!

শেয়ার করুন:
জিয়াউর রহমানের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছেলে কী হবেন তারেক রহমানের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী!

ছবি: সংগৃহীত

সাব্বির আহমেদ, মোজো এডিটর-ইন-চিফ
০৯:১৪ পিএম | ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বাবা ছিলেন জিয়াউর রহমান সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ছেলে কী হবেন তারেক রহমান সরকারের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী? এমন সম্ভাবনা সিরাজগঞ্জ থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. এম এ মুহিতের। জনস্বাস্থ্য এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশে বিদেশে কাজ করছেন ড. এম এ মুহিত। এবার তিনি এমপি! যোগ দিচ্ছেন মন্ত্রীসভায় এমন আলোচনা প্রবল। স্বাস্থ্য খাতের একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে তাকে রাখতে পারেন তারেক রহমান। আবার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়েও মন্ত্রী হিসেবে তার নাম আলোচনায় রয়েছে।

তার বাবা মতিন জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম এ মতিন ’৭৯, ’৮৬, ’৮৮, ’৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। বাবার সেই আসনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হলেন ছেলে ড . এম এ মুহিত।

বিএনপিতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে জনস্বাস্থ্য এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠী নিয়ে তিনি আগে থেকেই যুক্ত। শুধু দেশে নয় বৈশ্বিক নেটওয়ার্কেও তিনি এসব কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। একাধিক সূত্র বলছে, সমাজকল্যাণ অথবা স্বাস্থ্য এ দুই মন্ত্রণালয়ে যেকোনো একটিতে দেখা যেতে পারে ড. এম এ মুহিতকে।

১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। এরপরই মন্ত্রীত্ব বন্টন। এরই মধ্যে মন্ত্রী পদে সম্ভাব্য নামগুলো আলোচনায় এসেছে। 

ড . এম এ মুহিত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একজন স্বীকৃত গবেষক। তিনি লন্ডনের বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (UCL) থেকে এমএসসি এবং লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিখ্যাত সব জার্নালে তার ১৩০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং তিনি ৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তার এই জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দেশের স্বাস্থ্য অনগ্রসর পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন খাতের শীর্ষ পর্যায়ে সফলতার সাথে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মুহিত। তিনি ঢাকার ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ এশিয়া-র বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান এবং সিরাজগঞ্জের নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজ-এর ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তিনি এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ডিজ্যাবিলিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (AIDD) এবং চাইল্ড ডিজ্যাবিলিটি নেটওয়ার্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে থেকে প্রশাসনিক দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার স্বাস্থ্য ও জনসেবা কার্যক্রম বিস্তৃত। তিনি CSF Global-এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাংলাদেশ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া (জাকার্তা), অস্ট্রেলিয়া (নিউ সাউথ ওয়েলস) এবং নেপালে (কাঠমান্ডু) নিজস্ব অফিসের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। একইসাথে তিনি The Global LMIC Cerebral Palsy Register (GLM-CPR) নেটওয়ার্কের অন্যতম নীতিনির্ধারক, যেখানে ২৮টি দেশের ৮০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সংস্থা তার নেতৃত্বে কাজ করছে। এর মধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো উল্লেখযোগ্য।

স্বাস্থ্যসেবায় অনন্য বৈপ্লবিক পদক্ষেপ‌ তৃণমূল মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ডক্টর মুহিত গড়ে তুলেছেন এক বিশাল নেটওয়ার্ক। তিনি ‘প্রফেসর মতিন আই কেয়ার সিস্টেম’-এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১১টি আধুনিক চক্ষু হাসপাতাল এবং শাহজাদপুরে ১টি মা ও শিশু হাসপাতাল পরিচালনা করছেন। শাহজাদপুর আই হসপিটাল, রাজশাহী আই হসপিটাল, নওগাঁ ও সাঁথিয়া বিএনএসবি আই হসপিটালসহ তার প্রতিষ্ঠিত এই চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো হাজার হাজার মানুষের অন্ধত্ব দূরীকরণে ও মা-শিশুর চিকিৎসায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

টিকে/

মন্তব্য করুন