© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

নির্বাচনে অংশ না নিয়েও কিভাবে ২টি আসনে হারলেন কাদের সিদ্দিকী!

শেয়ার করুন:
নির্বাচনে অংশ না নিয়েও কিভাবে ২টি আসনে হারলেন কাদের সিদ্দিকী!

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৩৯ পিএম | ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচনি পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি’ দাবি করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তবে দলটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম নির্বাচনে অংশ না নিলেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে তার বড় ভাই আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের পক্ষ নিয়ে বিভিন্ন প্রচারণা ও পথসভায় অংশ নেন।

যেখানে নির্বাচনের পরিবেশ নেই বলে কাদের সিদ্দিকী ও তার দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি, সেখানে তিনি ব্যক্তিগতভাবে দুই আসনে দুই প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় জেলাজুড়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয়। পৃথক আসনে তার সমর্থিত দুই প্রার্থী হেরে যাওয়ায় স্থানীয়রা মন্তব্য করছেন-কাদের সিদ্দিকী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিয়েও দুটি আসনে তিনি ‘হেরে’ গেছেন।

দুই প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণায় অংশ নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি।

গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। দলীয় প্যাডে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়-অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা থেকেই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জন্ম। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সে ধরনের নির্বাচনি পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জানমালের নিরাপত্তাহীনতা ও সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ না থাকায় দলটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। কাদের সিদ্দিকী জাতীয় নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেকে দূরে রাখলেও রাজনৈতিকভাবে তিনি আলোচনার বাইরে থাকেননি। বৃহস্পতিবার রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। ফলাফল থেকে জানা যায়, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে বিএনপির প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিন ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫ হাজার ৩৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী কাদের সিদ্দিকীর বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী হাঁস প্রতীকে পেয়েছেন ৬২ হাজার ৫০৯ ভোট। টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৪ হাজার ২১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম কাদের সিদ্দিকী সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল হরিণ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১৩০ ভোট।

বাসাইল শহরের আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘যেখানে নির্বাচনি পরিবেশ মনের মতো না হওয়ায় কাদের সিদ্দিকীর দল ভোটে অংশ নেয়নি, সেখানে তিনি দুটি আসনে বিএনপির বিরুদ্ধে দুই প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। এটা লজ্জাজনক। তাই আমরা বলতে চাই, নির্বাচনে অংশ না নিয়েও কাদের সিদ্দিকী দুই আসনে হেরেছেন।’ জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন বলেন, ‘কাদের সিদ্দিকী সব সময় লাভ খোঁজেন ও আলোচনায় থাকতে ভালোবাসেন। যে কারণে তিনি নির্বাচনে অংশ না নিলেও বিএনপির প্রার্থীদের বিরোধিতা করতে ও তাদের পরাজিত করতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন। কাদের সিদ্দিকী বিরোধিতা করলেও টাঙ্গাইলের দুটি আসনের ভোটাররা ঠিকই ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করেছেন।’

এসএস/টিএ

মন্তব্য করুন