প্রথমবারের মতো প্রতিমন্ত্রী পেল জয়পুরহাট-২ আসনের জনগণ
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৪৬ এএম | ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আর সেই সরকারের মন্ত্রীসভায় স্থান পেয়েছেন জয়পুরহাট-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল বারী। তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের প্রতিমন্ত্রী পেল এ আসনের জনগণ।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথে জয়পুরহাট শহর ও তার নির্বাচনী এলাকা আক্কেলপুর-কালাই-ক্ষেতলাল এই তিন উপজেলার লোকজন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করেছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অভিনন্দন বার্তা দিচ্ছেন।
শপথ গ্রহণের পর মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, ‘আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমার দায়িত্ব পালন করবো।’
জয়পুরহাট-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে আব্দুল বারী ৬৫ হাজার ৫৪৮ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হন। তিনি সরকারের অবসরপ্রাপ্ত সচিব। এলাকায় তিনি ‘ডিসি বারী স্যার’ নামেই বেশি পরিচিত। মাঠপর্যায়ে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা তাকে নির্বাচনে এগিয়ে রাখে।
বিএনপির একাধিক নেতা ও সাধারণ ভোটারও আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘জেলার অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রশাসনিক সেবার মানোন্নয়নে আব্দুল বারী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। তিনি মাঠ প্রশাসনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সেবার মান বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।’
জয়পুরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর জয়পুরহাটবাসীর আশা পূরণ হয়েছে। সরকারের সাবেক সচিব ও জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল বারীর প্রশাসনিক দক্ষতা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নতুন গতি আনবে। আমরা বিশ্বাস করি, তার হাত ধরেই জেলার উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।’
কালাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মওদুদ হোসেন বলেন, ‘আব্দুল বারী সাহেব প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। আমাদের কালাই উপজেলায় তার জন্মস্থান। এ কারণে আমাদের একটু আলাদা অনুভূতি রয়েছে। দেশ স্বাধীনের পর জয়পুরহাট-২ (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) আসনে কোনো মন্ত্রী পাইনি। এ কারণে এই আসনের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। এই আসন থেকে আব্দুল বারী সাহেব প্রথম মন্ত্রিত্ব পেলেন। তার হাত ধরে এই আসনের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করছি।’
নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী, আব্দুল বারীর ২৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ এবং ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ আছে। তার মোট বার্ষিক আয় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৮৯৭ টাকা।
এ আসনে মোট ভোটার ৩৫১৫৭২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৭৪১৭৭ জন। নারী ভোটার ১৭৭৩৯৩ জন। এ আসনে কেন্দ্র সংখ্যা ১০৪টি।
এমআই/এসএন