© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার ফরেনসিক পর্যালোচনা করবে অস্ট্রেলিয়া

শেয়ার করুন:
বিশ্বকাপ ব্যর্থতার ফরেনসিক পর্যালোচনা করবে অস্ট্রেলিয়া

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৪৮ পিএম | ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচ হেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল অস্ট্রেলিয়া। গতকাল (১৭ ফেব্রুয়ারি) আয়ারল্যান্ড-জিম্বাবুয়ে ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় এক ম্যাচ হাতে থাকতেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে ২০২১ এর বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ২০০৯ সালের পর এই প্রথমবারের মতো তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর অস্ট্রেলিয়া দল এখন পূর্ণাঙ্গ (ফরেনসিক) পর্যালোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ওমানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলার পর দেশে ফেরার বিমান ধরবে অস্ট্রেলিয়ানরা। জশ হ্যাজেলউডের ইনজুরিতে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পাওয়ার পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বেঞ্চে বসে দলের হার দেখেছেন স্টিভ স্মিথ। দলের বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়ান সমর্থকদের তীব্র সমালোচনায় পড়েছে অজি টিম ম্যানেজমেন্টের এমন সিদ্ধান্ত। সিডনি সিক্সার্সের হয়ে সবশেষ বিগ ব্যাশে দারুণ মৌসুম কাটানোর পরও প্রথমে স্কোয়াডে স্মিথকে বিবেচনা করা হয়নি। ফলে প্রথম দুই ম্যাচের আগে তিনি শ্রীলঙ্কায় পৌঁছাতে পারেননি, যেখানে তার জন্য সুযোগ তৈরি হতে পারত।



বিশ্বকাপ শুরুর কয়েকদিন আগে অনুশীলনে অধিনায়ক মিচেল মার্শ অণ্ডকোষে গুরুতর চোট পান। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের সকালেই তাকে প্রথম ম্যাচ থেকে বাদ দেওয়া হয়-যেটি আসরে অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র জয়। মার্শের অবস্থা অনিশ্চিত থাকায়, অ্যাডিলেডে লাইভ গলফ ইভেন্টে থাকা স্মিথকে আয়ারল্যান্ড ম্যাচের আগে স্ট্যান্ডবাই হিসেবে ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২০২২ বিশ্বকাপে মাত্র একটি ম্যাচ খেলার পর স্মিথ নিজেকে টি–টোয়েন্টি ওপেনার হিসেবে নতুনভাবে গড়ে তোলেন। বিবিএল ১২ থেকে শুরু করে গত চার মৌসুমে (টেস্ট ব্যস্ততার কারণে সীমিত ম্যাচ খেলেও) তিনি সিডনি সিক্সার্সের হয়ে ৮৭৯ রান করেছেন ৭৩ গড় এবং ১৭০–এর বেশি স্ট্রাইক রেটে। গত মাসে বিবিএল ১৫তেও তিনি দুর্দান্ত ছিলেন। অ্যাশেজে ৪–১ জয়ের পর তিনি ছয় ম্যাচে একটি সেঞ্চুরিসহ ২৯৯ রান করেন ১৬৮ স্ট্রাইক রেটে; চার বছরে এটি ছিল তার চতুর্থ টি–টোয়েন্টি সেঞ্চুরি।

তবে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট কর্তারা বিশ্বকাপে কী ভুল হয়েছে তা বিশ্লেষণের আগে আবেগ কিছুটা শান্ত হতে দিতে চান। নির্বাচক টনি ডোডেমেইড জানান, তারা পুরো টুর্নামেন্ট নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করবেন, কারণ এটি ছিল 'ভীষণ হতাশাজনক' এক অভিযান।

শ্রীলঙ্কায় দলীয় হোটেল থেকে ডোডেমেইড বলেন, 'টুর্নামেন্ট যেভাবে এগিয়েছে, তা সত্যিই হতাশাজনক। তবে শেষ ম্যাচটি জোরালোভাবে শেষ করা গুরুত্বপূর্ণ। এরপর আমরা দেশে ফিরে পুরো বিষয়টি বিশ্লেষণ করব।'

পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) স্মিথকে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু মার্শ ফেরার অনুমতি পাওয়ায় টেস্ট দলের চার নম্বর ব্যাটার স্মিথের জন্য জায়গা হয়নি।

মার্শ ও হেড সেই সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণ করেন প্রথম উইকেটে মাত্র ৮.৩ ওভারে ১০৪ রান যোগ করে। দুজনই অর্ধশতক করেন। কিন্তু পরের দিকে ব্যাটিং ভেঙে পড়ে, ফলে সহ–আয়োজক শ্রীলঙ্কা ম্যাচে ফিরে আসে। পাথুম নিশাঙ্কার ৫২ বলে দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ১৮২ রানের লক্ষ্য দুই ওভার বাকি থাকতেই তাড়া করে জয় পায় শ্রীলঙ্কা।

স্মিথকে এখনও মূলত টপ-অর্ডার বিকল্প হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ডোডেমেইড বলেন, 'আমরা তাকে (স্মিথ) মূলত টপ-অর্ডারের কভার হিসেবেই দেখি। তৃতীয় ম্যাচেই তিনি বাস্তবে সুযোগ পেতে পারতেন, কিন্তু তখন আমাদের সেরা জুটি ‘বাইসন’ (মার্শ) ও হেড দারুণ খেলছিল। যদি আরও পরিবর্তনের প্রয়োজন হতো, তাহলে অন্য সিদ্ধান্ত হতে পারত। তবে এখনো স্টিভ ওপেনিং পজিশনের বিকল্প হিসেবেই আছেন।'

টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক ম্যাথিউ রেনশকেও মার্শের প্রত্যাবর্তনের জায়গা করে দিতে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। নির্বাচকেরা অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন, মার্কাস স্টয়নিস ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের বোলিং সামর্থ্যকে অগ্রাধিকার দেন। পাশাপাশি ব্যাটিং লাইন-আপ লম্বা করতে এবং বাঁহাতি স্পিনের বিকল্প বাড়াতে ম্যাথিউ কুহনেমানের বদলে কুপার কনোলিকে নেওয়া হয়।

এমআর/টিএ 

মন্তব্য করুন