© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জাককানইবি শিক্ষিকার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ, তদন্ত দাবিতে বিভাগে তালা

শেয়ার করুন:
জাককানইবি শিক্ষিকার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ, তদন্ত দাবিতে বিভাগে তালা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:৫৬ এএম | ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) ফোকলোর বিভাগের প্রভাষক প্রদিতি রাউত প্রমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের অর্থ চুরির অভিযোগ তদন্তের দাবিতে তালা ঝুলিয়েছে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের পঞ্চম তলায় বিভাগটিতে তালা ঝুলিয়ে তদন্তের দাবিতে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর বিভাগটির শিক্ষার্থীরা প্রভাষক প্রদিতি রাউত প্রমার বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে অর্থ গ্রহণ ও আর্থিক অভিযোগের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তিন দাবি উত্থাপন করে। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তে একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন, শাস্তি প্রমাণের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা মোতাবেক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কোনো শিক্ষার্থী যেন কোনো শিক্ষকের ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার না হয় তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি করা হয়।

ফোকলোর বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান রিমা জানান, শিক্ষার্থীরা তাদের সেমিস্টার ফাইনাল বা যেকোনো পরীক্ষা চলাকালীন ব্যাগ সামনে রাখলে সেখান থেকে প্রায়ই টাকা চুরির ঘটনা শোনা যায়। ​এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিভাগের বনভোজনে যাওয়ার পথে প্রায় ৮ হাজার টাকা চুরির ঘটনা ঘটে।

তিনি আরো জানান, সেখানে বিভাগীয় প্রধানের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা, এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিভাগের সেকশন অফিসারের স্ত্রীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা চুরি হয়। বিভাগীয় প্রধানের ব্যাগ থেকে টাকা চুরি হওয়ার পর উক্ত শিক্ষিকার ওপর সন্দেহ করা হয় এবং রাতে সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাগ তল্লাশি করা হলে ওই শিক্ষিকার কাছ থেকে অর্থ উদ্ধার করা হয়।

আন্দোলনকারী স্নাতকোত্তর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তকিব হাসান বলেন, অভিযোগ নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করলে তিনি সেটি প্রক্টরের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দেন। পরে আবার উপাচার্যের কাছে গেলে বিভাগে যোগাযোগ করতে বলা হয়। কিন্তু বিভাগীয় পর্যায়ে গেলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। দীর্ঘসূত্রিতা ও টালবাহানার কারণে আমরা বাধ্য হয়ে বিভাগে তালা দিয়েছি।

আমরা দ্রুত সমাধান চাই।

বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. আতিজা দীল আফরোজ বলেন, আমাদের বিভাগ বরাবর আবেদন এসেছে ৮ তারিখ। শিক্ষার্থীরা গিয়েছিল উপাচার্যের কাছে, সেখানে প্রক্টরসহ অনেকে ছিলেন। সেখান থেকে বলা হয়েছে, বিভাগের মাধ্যমে আসবে, প্রথমে বিভাগ, পরে ডিন- এইভাবে প্রক্রিয়াগতভাবে যাবে। শিক্ষার্থীরা জানাতে এসেছে, বিভাগ কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তখন আমি জানিয়েছি যে আমার জানা মতে এখানে বিভাগের এখতিয়ার নেই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রভাষক প্রদিতি রাউত প্রমা বলেন, আমি এই বিষয়টি নিয়ে ট্রমাটাইজড। আমার ক্লাস নেওয়ার ছিল আজকে, নিতে পারছি না। আমি একটু স্টেবল হয়ে নিই, তারপর আমি নিজেই তোমাদের ডেকে এই বিষয় নিয়ে কথা বলব।

এ বিষয়ে প্রক্টর মাহবুবুর রহমান জনি জানান, তালাবদ্ধ থাকায় আমরা বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন