সেলিম-জাভেদের দীর্ঘ ১৬ বছরের চিত্রনাট্য-জুটি কোন কারণে ভেঙেছিল?
ছবি: সংগৃহীত
১০:৫৯ এএম | ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে কাহিনি ও চিত্রনাট্যকার হিসেবে এক অনন্য অধ্যায়ের নাম সেলিম খান ও জাভেদ আখতার। ‘শোলে’ থেকে ‘জঞ্জির’—পর পর সাফল্যে ভরা ১৬ বছরের পথচলায় এই জুটি বদলে দিয়েছিল বলিউডের ভাষা, সংলাপের ধার এবং নায়কের ব্যক্তিত্ব নির্মাণের ধরণ। অথচ সেই সোনালি অধ্যায়ই আচমকা থেমে যায় এক সিদ্ধান্তে।
মুম্বইয়ে নায়ক হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই পা রেখেছিলেন সেলিম। চেহারা ও উপস্থিতি দিয়ে শুরুতে কাজ পেতেও অসুবিধা হয়নি। ষাটের দশক থেকে সত্তরের শুরু পর্যন্ত একাধিক ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বুঝতে পারেন, অভিনয় তাঁর মূল জায়গা নয়। ঠিক তখনই বন্ধু জাভেদের সঙ্গে জুটি বেঁধে সংলাপ ও চিত্রনাট্য লেখা শুরু। সেখান থেকেই শুরু এক নতুন যুগ।
১৯৭১ থেকে ১৯৮৪ এই সময়কালে তাঁদের লেখা ছবিগুলি বক্স অফিসে একের পর এক সাফল্য পায়। তাঁদের সংলাপেই প্রতিষ্ঠা পায় ‘অ্যাংরি ইয়াং ম্যান’-এর ইমেজ, যার সবচেয়ে বড় মুখ হয়ে ওঠেন অমিতাভ বচ্চন। শুধু হিট ছবি নয়, চিত্রনাট্যকারদেরও যে আলাদা পরিচিতি ও মর্যাদা থাকতে পারে, সেই স্বীকৃতির লড়াইও শুরু হয় তাঁদের হাত ধরেই। এমনকি পারিশ্রমিকের দিক থেকেও অনেক সময় নায়কদের সমকক্ষ বা তার চেয়েও বেশি সম্মানী পেতেন তাঁরা।

কিন্তু সাফল্যের চূড়াতেই নাকি ফাটল ধরে সম্পর্কে। চিত্রনাট্যের পাশাপাশি সঙ্গীত নিয়েও কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয় জাভেদের। তিনি গানের জগতে পা রাখতে চান। প্রস্তাব দেন, ছবির গানও ‘সেলিম-জাভেদ’ নামেই লেখা হোক। এখানেই আপত্তি তোলেন সেলিম। তাঁর সাফ বক্তব্য, যে কাজে তিনি শ্রম দেবেন না, সেখানে নামের ভাগীদার হবেন না। গান লেখায় তাঁর কোনও ধারণা নেই এই সৎ স্বীকারোক্তিই নাকি বন্ধুত্বের সমীকরণ বদলে দেয়।
পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, আলাদা পথে হাঁটার সিদ্ধান্তই নেন দু’জন। জাভেদ আপত্তি করেননি। জুটি ভেঙে যাওয়ার পর সেলিম কিছুদিনের জন্য লন্ডনে চলে যান। পরে দেশে ফিরে কাজ শুরু করলেও ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নেন। অন্যদিকে জাভেদ গীতিকার হিসেবে দ্রুতই খ্যাতির শিখরে পৌঁছে যান।
দীর্ঘ ১৬ বছরের সৃজনযাত্রা, অসংখ্য স্মরণীয় সংলাপ ও কালজয়ী ছবি সব কিছুর পরেও এক নীতিগত মতপার্থক্যই শেষ করে দেয় বলিউডের অন্যতম সফল এই জুটিকে। আজও তাঁদের ভাঙনের কারণ নিয়ে আলোচনা থামেনি, তবে ইতিহাসে তাঁদের নাম লেখা রয়েছে যুগল সাফল্যের উজ্জ্বল অক্ষরে।
পিআর/টিকে