‘প্রত্যেক শিল্পী একদিন ভাবেন, তাঁকে আসলে কী তৃপ্তি দেয়’, কেন এমন বললেন আরমান?
ছবি: সংগৃহীত
১১:২৪ এএম | ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
একাধিক সফল গান গেয়েছেন তিনি। অরিজিৎ সিংহ প্লেব্যাক গাওয়া থেকে অবসরের ঘোষণা করার পরে তাঁর শূন্যস্থান পূরণের তালিকায় যে সব নাম উঠে আসছে, তাদের মধ্যে অন্যতম আরমান মালিক। বড় হয়েছেন সঙ্গীতের পরিবারে। বাবা ডাবু মালিক পেশায় সঙ্গীত পরিচালক ও অভিনেতা এবং কাকা অনু মালিক প্রতিষ্ঠিত সঙ্গীত পরিচালক। সম্প্রতি কলকাতায় অনুষ্ঠান করে গেলেন গায়ক। তার মধ্যেই গান নিয়ে গণমাধ্যমে নানা প্রশ্নের উত্তর দিলেন আরমান।
প্রশ্ন: শৈশব থেকেই বলিউডকে কাছ থেকে দেখেছেন। পেশাদার গায়ক হিসাবেও কেটে গিয়েছে বেশ কয়েক বছর। শুরুর সময় থেকে এখনও পর্যন্ত বলিউডের সঙ্গীতে নানা বদল এসেছে। কী ভাবে দেখেন?
আরমান: আমি যখন শুরু করেছিলাম, তখন ছবির গানও অ্যালবাম-কেন্দ্রিক ছিল। সে সব গান মানুষের মনে দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকত। ছবির গল্পের সঙ্গে গানগুলির গভীর যোগ থাকত।
প্রশ্ন: এখন আর সেটা হয় না?
আরমান: এখন সব কিছু অনেক দ্রুত বদলে যায়। আরও বেশি পরীক্ষানিরীক্ষা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক প্রভাব আছে, আর সঙ্গে সঙ্গে সফল হওয়ার চাপও রয়েছে। এই অভ্যাসে ভাল না কি খারাপ হয়েছে, সেই দিকে যাচ্ছি না। তবে বিষয়টা অন্য রকম হয়ে গিয়েছে। আসলে এখন চ্যালেঞ্জটা হল, খুব অল্প সময়ের মধ্যে এমন কিছু তৈরি করতে হবে, যাকে সময় ধরে রাখতে পারবে না।

প্রশ্ন: আজকের বলিউড গায়কদের নিজেদের স্বাতন্ত্র্য প্রকাশের যথেষ্ট জায়গা দেয়, না কি সবটাই ট্রেন্ড-নির্ভর হয়ে গিয়েছে?
আরমান: হ্যাঁ, অনেক সময়েই ট্রেন্ড-নির্ভর হয়ে যায়। কিন্তু আমি এটাও বিশ্বাস করি, নিজস্বতা দেখানোর থাকলে, তার ঠিক একটা রাস্তা তৈরি হয়ে যায়ই। যে জিনিসের চল রয়েছে, ইন্ডাস্ট্রির হয়তো সেই দিকে ঝোঁক থাকে। কিন্তু শ্রোতারা ঠিক বলতে পারেন, কোন গায়কির মধ্যে স্বাতন্ত্র্য রয়েছে। তবে সঙ্গীতশিল্পী হিসাবে নিজেদের কণ্ঠ ও পরিচিতিকে রক্ষা তো করতেই হবে। ক্রমশ আমি এই বিষয়ে সতর্ক হয়েছি।
প্রশ্ন: কলকাতায় আগেও অনুষ্ঠান করেছেন একাধিক বার। এই শহরের সঙ্গে সঙ্গীতের এক গভীর যোগ রয়েছে! সত্যিই কি এখানে অনুষ্ঠান করতে আসার আবেগ কিছুটা আলাদা?
আরমান: এখানে মানুষ মন দিয়ে গান শোনেন। এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। এখানকার শ্রোতারা শুধুই ‘চিয়ার’ করেন না। তাঁরা গান অনুভব করেন। সাহিত্য আর সংস্কৃতির গভীরতা রয়েছে এখানে। যার ফলে এখানে গান গাওয়া তুলনামূলক আমার কাছে আবেগের। মঞ্চ থেকে অনুভব করতে পারি, এখানে শ্রোতা গানের কথা, সুরকে গুরুত্ব দেন। তাই মঞ্চে দাঁড়িয়ে মনে হয়, এই শ্রোতাদের অনেক কিছু দেওয়া যায়।
প্রশ্ন: কলকাতায় অনুষ্ঠান করার আগে কী ভেবে গানের তালিকা ঠিক করেন?
আরমান: কলকাতার মতো শহরের জন্য আমি সব সময় তুলনায় শান্ত ধরনের গান ও বেশি মেলোডির দিকটা খেয়াল রাখি। এখানকার মানুষকে ‘ব্যালাড’ বিশেষ ভাবে ছুঁয়ে যায়। যখন অনুষ্ঠানে শ্রোতারা নরম কণ্ঠে সঙ্গে সঙ্গে গেয়ে ওঠেন, তখনই ম্যাজিকটা তৈরি হয়। সেই মুহূর্তগুলো অনুষ্ঠান শেষের অনেক পরেও মনে থেকে যায়।
প্রশ্ন: অমাল মালিক ও আরমান মালিক- বলিউডের আলোচিত দুই ভাই। বলিউডে একযোগে বেশ কিছু সফল গান রয়েছে আপনাদের। আপনাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক কোনও ভাবে পেশাদার রসায়নে প্রভাব ফেলে?
আরমান: অমালের সঙ্গে কাজ করা একেবারেই স্বতঃস্ফূর্ততা থেকে আসে। আমরা একই ধরনের সাউন্ড আর গানের পরিবেশের মধ্যে বড় হয়েছি। একে অপরকে এত ভাল ভাবে চিনি যে, স্টুডিয়োয় অনেক সময় কথা না বলেও সবটা বোঝা হয়ে যায়। কখনও কখনও শুধু একটা দৃষ্টিই যথেষ্ট। এই ব্যক্তিগত বন্ধনের জন্যই স্বাচ্ছন্দ্য তৈরি হয়ে যায়। গানের মাধ্যমে আমরা সৃষ্টিশীল ভাবে নিজেদের দুর্বলতাও প্রকাশ করতে পারি অনায়াসে।
কেএন/টিকে