চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের গাভাস্কার-কপিল পক্ষ নিলেন ইমরান খানের
ছবি: সংগৃহীত
১২:২৬ পিএম | ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
পরিচয়টা কেবল কিংবদন্তি ক্রিকেটার কিংবা ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক হতে পারত। কিন্তু ইমরান খান রাজনীতির ময়দানে গিয়েও সাফল্য পেয়েছেন। কিন্তু বর্তমানের পরিণতি নিশ্চয়ই চাননি তিনি। পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী ২০২৩ সাল থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দী। অভিযোগ রয়েছে- পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত ইমরানের সাক্ষাত পাননি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আইনি সুবিধাতেও রয়েছে ঘাটতি। একসময়ের এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তিও প্রায় ৮৫ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানা যায়।
ইমরান খানের এই করুণ অবস্থার কথা জানতে পেরে একে একে আওয়াজ তুলছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদরা। সম্প্রতি তার স্বাস্থ্য ও কারাবাসের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে পাকিস্তান সরকারকে খোলা চিঠি দিয়েছেন বিশ্বের ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক। যেখানে আছেন পাকিস্তানের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সাবেক দুই তারকা সুনীল গাভাস্কার এবং কপিল দেব-ও। তবে কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের এই দলকে একত্রিত করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেল।

কীভাবে এবং কোন চিন্তা থেকে সাবেক অধিনায়কদের সমন্বয়ে ইমরানের পাশে দাঁড়িয়েছেন সেটি জানালেন চ্যাপেল। এই অজি কিংবদন্তি ইএসপিএন ক্রিকইনফোতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলেছেন, ‘আমার পুরোনো বন্ধু ও প্রতিদ্বন্দ্বী ইমরান খানের ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে বুঝলাম, অন্ধকার ভেদ করতে একটি প্রদীপ যথেষ্ট নয়। ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্রকে ঘিরে যে অন্ধকার নেমে এসেছে, তা কাটাতে প্রয়োজন একাধিক কণ্ঠস্বর। এমন একদল অধিনায়কের সম্মিলিত আহ্বান, যাদের যৌথ ইতিহাস উপেক্ষা করা যাবে না।’
সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়কের সু-চিকিৎসা নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রায় ২০ জন সাবেক অধিনায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করেন চ্যাপেল। এর মধ্যে ১৩ জন দ্রুত সাড়া দিয়ে চিঠিতে নাম যুক্ত করেছেন। চ্যাপেল বলেছেন, অ্যালান বোর্ডার, মাইকেল আথারটন এবং ক্লাইভ লয়েডের মতো কিংবদন্তিরা তাৎক্ষণিকভাবে সমর্থন জানান। বিশেষভাবে ভারতীয় দুই গ্রেট সুনীল গাভাস্কার এবং কপিল দেবেরও প্রশংসা করেছেন তিনি। চ্যাপেলের স্পষ্ট বার্তা, ‘এই চিঠি কোনো রাজনৈতিক বিবৃতি নয়, বরং ক্রিকেট তাদের যে ন্যায়, শালীনতা ও ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার শিক্ষা দিয়েছে, তার ভিত্তিতে একটি মানবিক আবেদন।’
ইমরান এমন আচরণ প্রাপ্য নন এবং তার পাশে দাঁড়াতে গাভাস্কার-কপিলরা কোনো দ্বিধা করেননি বলেও দাবি চ্যাপেলের, ‘এটি সাবেক কোনো জাতীয় নেতার প্রাপ্য আচরণ নয়, আর বিশ্বকে এতকিছু দেওয়া একজন বৈশ্বিক ক্রীড়া আইকনের জন্যও উপযুক্ত নয়। এই অন্যায়ের বোধই আমাকে অন্য অধিনায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। প্রতিবেশী দেশকে ঘিরে তাদের দেশে (ভারত) যে চাপ রয়েছে, তা সত্ত্বেও তারা (গাভাস্কার-কপিল) এক মুহূর্তও দ্বিধা করেননি। তারা তাদের বন্ধুকে ও উপমহাদেশে অসংখ্য লড়াইয়ের স্মৃতিকে মনে রেখেই ইমরানের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য যেসব দাবি নিয়ে তার সতীর্থ ক্রিকেটাররা হাজির হয়েছেন সেসব তাদের দায়িত্ব বলেও মনে করেন চ্যাপেল, ‘আমরা কোনো চরমপন্থী দাবি জানাইনি, এগুলো একটি সভ্য সমাজের মৌলিক চাহিদা। আমাদের নামের সঙ্গে এমন এক আভা ও কর্তৃত্ব জড়িয়ে আছে, যা শারীরিকভাবে আমাদের সেরা সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও টিকে থাকে। আমরা একটি ঐতিহ্যের রক্ষক। যদি আমাদের একজনকে এভাবে উপেক্ষা ও অমানবিক আচরণের শিকার হতে দিই, তবে আমরা ক্রিকেটীয় আত্মার প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হব।’
আরআই/টিকে