© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আক্ষেপের ইনিংসেও জোরালো বার্তা দিলেন বেনেট

শেয়ার করুন:
আক্ষেপের ইনিংসেও জোরালো বার্তা দিলেন বেনেট

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:২৭ এএম | ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ব্রায়ান বেনেট বনাম জসপ্রীত বুমরাহ। চাপ? চাপ আবার কী? ওয়াইড লং অন বাউন্ডারি দিয়ে সাদা বল উড়িয়ে মারলেন বেনেট। চেপুকের ২৭ হাজারের বেশি দর্শক যেন হতভম্ব, নিস্তব্ধ। নিজেদের সেরা বোলারকে এভাবে মার খেতে দেখে অভ্যস্ত নয় ভারতের দর্শক।

চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা ও ভারতের বৈচিত্রময় কন্ডিশনে শেষ চার ইনিংসে তৃতীয় পঞ্চাশ ছাড়ানো ইনিংস খেললেন বেনেট। তার সতীর্থরা ডাগআউটে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে অভিবাদন জানালেন। তার অধিনায়ক সিকান্দার রাজা তখন ক্রিজে ছিলেন, বেনেটকে আলিঙ্গন করার আগে নিজের ব্যাটের ওপর হাততালি দিলেন।

এটা বেনেটের কাছ থেকে কেবল একটি শটই ছিল। এটা ছিল তার জাত চেনানো, বলা যায় অন্যদের জন্য জোরালো বার্তা। বিশ্বের সেরা বোলারকে প্রথম দেখাতেই যেভাবে পেটালেন, তাতে বলাই যায় সেরাদের কাতারে যেতেই এসেছেন।

হ্যাঁ, বুমরাহর বলটা যে বাজে ছিল তাও নয়। বেনেটের বাম কাঁধ তাক করে শর্ট বল করেন ভারতীয় পেসার। জিম্বাবুয়ের ব্যাটার ভড়কে যাননি। কোমড়টা একটু নাড়িয়ে ব্যাট ঘুরালেন। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘আমি মনে করি জসপ্রীতকে মোকাবিলা করা সবসময় কঠিন। আমার চিন্তাভাবনা ছিল যতটা সম্ভব বলের দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখা এবং শরীরকে নিজের ছন্দে খেলতে দেওয়া। হ্যাঁ, বলটি আমার নাগালের মধ্যে ছিল এবং আমি কেবল শট খেলেছি।’

এরপর কমবেশি সবাইকে মেরে খেলেছেন বেনেট। হার্দিক পান্ডিয়ার বলে শর্ট থার্ডে বুমরাহর মাথার ওপর দিয়ে সীমানার বাইরে মারেন। হার্দিক বলের লাইন পাল্টালেও নিজের ৩৬০ ডিগ্রির দক্ষতা দেখান জিম্বাবুয়ান ব্যাটার। অক্ষর প্যাটেলকেও ছাড়েননি তিনি। তার ১২ বলে ২২ রান তুলে নেন।

চেপুকে শেষ হলো জিম্বাবুয়ের বিশ্বকাপ যাত্রা। স্মরণীয় এক আসর কাটাল তারা অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো দলকে হারিয়ে। আর পুরো টুর্নামেন্টে নিজের জাত চেনালেন বেনেট। বয়স মাত্র ২২। নিজের প্রথম বিশ্বকাপেই অবিশ্বাস্য। পাঁচ ইনিংসে ১৩৫.৭৮ স্ট্রাইক রেটে ২৭৭ রান করেছেন। মাত্র একবার আউট হয়েছেন। বর্তমানে এই বিশ্বকাপে তার চেয়ে বেশি রান আছে কেবল পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহানের।



বেনেট তার ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পথে ক্রিস গেইলকে অল্পের জন্য ছাড়াতে পারেননি। বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে ৯০-এর ঘরে রান তার। এক রানের জন্য সবার উপরে থাকা গেইলকে ছুঁতে পারেননি। ভারতের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ওয়েস্ট ইন্ডিজ তারকার, ২০১০ সালে করেছিলেন ৯৮ রান।

তবে বেনেট জিম্বাবুয়ের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড গড়েছেন, পেছনে ফেলেছেন রাজাকে। এই ইনিংস খেলার পথে শন উইলিয়ামসকে ছাড়িয়ে টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ের হয়ে তৃতীয় সেরা ইনিংস খেলেছেন। তার উপরে কেবল রাজা ও রায়ান বার্ল।

চার বছর আগে বেনেট অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখতেই বেশ দ্রুত নিজেকে চেনান। তার জাঁকালো সিভিতে রয়েছে ট্রেন্ট ব্রিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি টেস্ট সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের বিপক্ষে সিলেটে চতুর্থ ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি এবং হারারেতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫০। ভবিষ্যতে তিনি কতদূরে যেতে পারেন, সেটা ভাবলে শিউরে ওঠা লাগতে পারে।
জিম্বাবুয়ের ফিল্ডিং কোচ, স্টুয়ার্ট মাতসিকেনিয়েরি বলেছেন, ‘ব্রায়ানের সীমা নেই। সে সত্যিই কঠোর পরিশ্রমী এবং খুবই অনুপ্রেরণাদায়ী এক তরুণ। এটা ভীতি জাগানিয়া যে তার বয়স কেবল ২২ এবং সে কতদূর যেতে পারে, সেটা দেখা রোমাঞ্চকর। আমি তার জন্য কোনো সীমা টানতে চাই না, তার সামনে অনেক ভালো কিছু আছে। সে শেখার জন্য ক্ষুধার্ত। কথা বলার চেয়ে সে শোনে বেশি। সে সবসময় পরের দিন আরও ভালো কিছু করতে।’

জিম্বাবুয়ে সেমিফাইনাল খেলতে পারেনি এবং বেনেটও অল্পের জন্য সেঞ্চুরি পেলেন না। কিন্তু তার অপরাজিত ৯৭ রান জিম্বাবুয়েকে এনে দিলো আনন্দের উপলক্ষ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ।

টিজে/এসএন 

মন্তব্য করুন