দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা পেতে ধনকুবেরদের টাকার লড়াই
ছবি: সংগৃহীত
০১:০৪ পিএম | ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আইপিএলের দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা বদল হতে পারে বলে আগেই আভাস পাওয়া গিয়েছিল। আসন্ন আসর শুরুর আগে এরই মধ্যে তোড়জোড় চলছে। ভারতীয়দের পাশাপাশি আমেরিকান ধনকুবেরদেরও নজর রয়েছে দল কেনায়।
রয়্যাল চ্যাসেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু অথবা রাজস্থান রয়্যালসের মালিকানা কিনতে আগ্রহী হ্যারিস ব্লিজার স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেনমেন্টের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আমেরিকার ব্যবসায়ী ডেভিড ব্লিজার। তিনি দু’টি দলের কর্তৃপক্ষের সঙ্গেই আলোচনা শুরু করেছেন। দুই ভারতীয় শিল্পপতি এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কো-চেয়ারম্যান আব্রাম গ্লেজারের সঙ্গে লড়াইয়ে নেমেছেন ব্লিজার।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইপিএলে বিনিয়োগ করতে মরিয়া আমেরিকার ধনকুবের ব্লিজার। তার দু’জন প্রতিনিধি আইপিএলের দু’টি দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। গত বারের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরুর দাম উঠতে পারে ১.৮ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১৬,৩৬৬ কোটি রুপি। যদিও আইপিএলের দু’টি দলের কর্তৃপক্ষই এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। মুখ খোলেনি ব্লিজারের সংস্থার কর্তারাও।
আমেরিকার বিভিন্ন লিগে বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে ব্লিজারের। এনবিএর দল ফিলাডেলফিয়া ৭৬ ইয়ার্স এবং এনএইচএলের দল নিউ জার্সি ডেভিলসে বিনিয়োগ রয়েছে তার। ব্লিজারের লড়াই মূলত গ্লেজারের সঙ্গে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কো-চেয়ারম্যানের হাতে রয়েছে এনএফএলের দল টাম্পা বে বুকানিয়র্সের মালিকানা। তিনিও আইপিএলের দল কিনতে চান। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিসিআই) দরপত্রও জমা দিয়েছেন। বেঙ্গালুরু এবং রাজস্থান— দু’টি দলের জন্যই লড়াইয়ে নেমেছেন। গ্লেজারও সরকারিভাবে আইপিএলের দল কেনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
আইপিএল এখন বিশ্বের অন্যতম বড় এবং লাভজনক লিগ। দলগুলোও ব্যবসায়িকভাবে বেশ লাভবান। এশিয়ার ক্রীড়া-ব্যবসা সম্পর্কে ধারণা বদলে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) ক্রিকেটের প্রসারের স্বার্থে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে আমেরিকায় জনপ্রিয় করতে চাইছে। আইপিএল নিয়ে ব্লিজার, গ্লেজারের আগ্রহ আইসিসির প্রচেষ্টার জন্য ইতিবাচক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্বের শীর্ষ এবং জনপ্রিয় লিগগুলিতে যারা বিনিয়োগ করেন, আইপিএলের প্রতি তাদের আগ্রহে লাভবান হতে পারে ক্রিকেটই।
বেঙ্গালুরুর মালিকানা এখন রয়েছে যুক্তরাজ্যের একটি পানীয় সংস্থার ভারতীয় বিভাগের হাতে। রাজস্থানের মালিকানা লন্ডনের শিল্পপতি মনোজ বাদলের কাছে। দু’পক্ষই আর আইপিএলে বিনিয়োগ করতে চাইছে না। বিসিসিআইকে ইতোমধ্যে বিষয়টি জানিয়েছে তারা। তারপরই বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ মূল্যায়নকারী বিভিন্ন সংস্থা আইপিএলের বাজার মূল্য নিয়ে সমীক্ষা শুরু করে। যে সংস্থাগুলো অন্যতম ব্লিজারের মালিকানাধীন সম্পদ ব্যবস্থাপক ‘ব্ল্যাকস্টোন’ গোষ্ঠী। শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক বিনিয়োগ সংস্থা কোলবার্গ ক্র্যাভিস রবার্টস অ্যান্ড কোম্পানিও (কেকেআর) আইপিএলের মূল্যায়ন করেছে। এই দুই সংস্থার ইতিবাচক রিপোর্টই ব্লিজার, গ্লেজদের উৎসাহী করেছে।
রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, ব্লিজার এবং গ্লেজরা আইপিএলের দল কেনার জন্য যে কোনও মূল্য দিতে রাজি। তবে তারা হয়তো এখনই ১০০ শতাংশ মালিকানা চাইছেন না। তারা ব্যবসায়িক গোষ্ঠী গঠন করে দল কিনতে চান। সেই গোষ্ঠীতে কোনো ভারতীয় সংস্থাও থাকতে পারে। শেষ পর্যন্ত কাউকে সঙ্গে না পেলে একাই ঝাঁপাবেন আমেরিকার দুই ধনকুবের। আগামী ২৬ মার্চ থেকে আইপিএল শুরু হতে পারে। দল কেনার জন্য মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে দরপত্র জমা দিতে হবে। রাজস্থান বিক্রির দায়িত্বে রয়েছে রেইন গোষ্ঠী। বেঙ্গালুরুর বিষয়টি দেখভাল করছে সিটিগোষ্ঠী। এই দুই সংস্থাও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি অগ্রগতি সম্পর্কে।
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বেঙ্গালুরু লাভ করেছিল ৫৬ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা। শেষ তিন বছরে বেঙ্গালুরুর লাভ বেড়েছে ৭৩ শতাংশ। একই সময় রাজস্থানের লাভ বেড়েছে ১৩৬ শতাংশ। বেঙ্গালুরু কেনার দৌড়ে রয়েছেন সেরাম ইনস্টিটিউটের সিইও আদার পুনাওয়ালা এবং মনিপাল এডুকেশন অ্যান্ড মেডিক্যাল গ্রুপের চেয়ারম্যান রঞ্জন পাই। দুই ভারতীয় সংস্থা পৃথক ভাবে দরপত্র জমা করেছে। বিরাট কোহলি, স্মৃতি মান্ধানাদের দলের মালিকানা পাওয়ার লড়াই বেশ কঠিন। এই পরিস্থিতিতে গ্লিজার, গ্লেজরা মরিয়া হতে পারেন রাজস্থানের জন্য। সব মিলিয়ে ভারত এবং আমেরিকার চার ধনকুবেরের লড়াই জমে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
টিজে/এসএন