© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মৃত্যুর আগে দেওয়া ভাষণে কী বলেছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

শেয়ার করুন:
মৃত্যুর আগে দেওয়া ভাষণে কী বলেছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:২৩ পিএম | ০১ মার্চ, ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানে নিহত হওয়ার খবরে ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শোকের ছায়া নেমেছে। মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি ভাষণ ছড়িয়ে পড়েছে। যেটি ছিল জনসম্মুখে দেওয়া খামেনির শেষ ভাষণ।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শেষবারের মতো তিনি জনসম্মুখে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি প্রতিরোধক অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছিলেন।

পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশে ১৯৭৮ সালের তাবরিজ অভ্যুত্থানের বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে ভাষণ দেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘এই সাম্রাজ্য (যুক্তরাষ্ট্র) পতনের দিকে এগোচ্ছে।’ একইসঙ্গে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকেরও বেশি নাগরিক তাকে পছন্দ করেন না।’

শেষ ভাষণে যা বলেছিলেন খামেনি
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে কয়েকটি কথা বলব। এটি এমন একটি রাষ্ট্র, যা সত্যিকার অর্থেই পতনের পথে। এটি এমন একটি সাম্রাজ্য, যা ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভেঙে পড়া মার্কিন সাম্রাজ্য সত্যিই ভেঙে পড়ছে। তাদের অর্থনীতিতে সমস্যা, নীতিতে সমস্যা এবং সমাজে সমস্যা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশেরও বেশি মানুষ তাদের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে সমর্থন করেন না।’
খামেনি দাবি করেন, তেহরান-ওয়াশিংটন সম্পর্কের অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে ইরানের প্রতি মার্কিন উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণে। তার ভাষায়, ‘আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমস্যা হলো- তারা ইরানকে গিলে ফেলতে চায়, আর ইরানি জাতি তা প্রতিহত করছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র তাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।’

তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হামলার হুমকিকেও গুরুত্বহীন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই বলেছেন, ৪৭ বছরেও যুক্তরাষ্ট্র ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে উৎখাত করতে পারেনি। তিনি তার নিজের জনগণের কাছেও অভিযোগ করেছেন যে, ৪৭ বছরেও তা সম্ভব হয়নি। এই স্বীকারোক্তি সত্য। আমিও বলছি- আপনারাও তা পারবেন না।’

খামেনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়ানোর সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তিও কখনো কখনো এমন আঘাত পেতে পারে, যেখান থেকে আর উঠে দাঁড়ানো সম্ভব হয় না।’ এক্সে খামেনির শেষ পোস্ট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়ার কয়েক মিনিট পর খামেনির সরকারি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে ফারসি ভাষায় একটি বার্তা পোস্ট করা হয়। সেখানে ‘হায়দার’ নামটি উল্লেখ করা হয়- যিনি শিয়া ইসলামের প্রথম ইমাম এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। ইরানে ‘হায়দার’ শব্দটি যুদ্ধের স্লোগান হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। পোস্টে আগুন জ্বালানো তলোয়ার হাতে এক আলেমের ছবি ছিল।

ফারসি বার্তায় লেখা ছিল, ‘বে নাম-এ নামি-য়ে হায়দার, আলাইহিস সালাম’—এর অর্থ, ‘মহিমান্বিত হায়দারের নামে (তার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক)।’

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বড় ধরনের হামলায় ৮৬ বছর বয়সী খামেনি নিহত হন। তার মৃত্যু ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। রোববার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ অ্যাজেন্সি (ইরনা) তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মৃত্যু ঘোষণা করে বলেন, ‘এতে ইরানিদের জন্য নিজেদের দেশ পুনরুদ্ধারের সর্বোত্তম সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

এবি/টিএ

মন্তব্য করুন