© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

খামেনি হত্যার জেরে জ্বলছে পাকিস্তান, ২৪ প্রাণহানি ও কারফিউ জারি

শেয়ার করুন:
খামেনি হত্যার জেরে জ্বলছে পাকিস্তান, ২৪ প্রাণহানি ও কারফিউ জারি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:০৪ এএম | ০৩ মার্চ, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিবাদে পাকিস্তানে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটিতে সামরিক বাহিনী তলব করা হয়েছে। কিছু এলাকায় তিন দিনের সান্ধ্য আইন (কারফিউ) জারি করা হয়েছে।

গত রোববার দেশজুড়ে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কর্তৃপক্ষ রাজধানী ইসলামাবাদসহ বিভিন্ন শহরে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে।


সোমবার ভোরের আগে উত্তরের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের গিলগিট, স্কার্দু এবং শিগায়ার জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। সরকারি তথ্যমতে, এই অঞ্চলে সংঘর্ষের সময় অন্তত ১২ জন বিক্ষোভকারী এবং একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গিলগিট শহরে নিহত হয়েছেন ৭ জন। অন্যদিকে, স্কার্দু শহরে নিহত হয়েছেন ৬ জন।

জাতিসংঘের দপ্তরে হামলা
বিক্ষোভকারীরা রোববার স্কার্দু শহরে ভারত ও পাকিস্তানের বিতর্কিত কাশ্মীর সীমান্তের যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা UNMOGIP (United Nations Military Observer Group in India and Pakistan) এবং জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর কার্যালয়ে হামলা চালায়। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে উঠলে ইউএনএমওজিপিপি-এর ফিল্ড স্টেশনটি ভাঙচুর করা হয়। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই অঞ্চলে জাতিসংঘের কর্মীদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

অন্যদিকে, গিলগিট-বালতিস্তান সরকারের মুখপাত্র শাবির মীর জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বুধবার পর্যন্ত সান্ধ্য আইন বলবৎ থাকবে। পুলিশ প্রধান আকবর নাসির খান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কথা উল্লেখ করে বাসিন্দাদের বাড়ির ভেতরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বিক্ষুব্ধ জনতা গিলগিটে একটি পুলিশ স্টেশন জ্বালিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি একটি স্কুল এবং স্থানীয় দাতব্য সংস্থার কার্যালয় ভাঙচুর করেছে।

করাচি ও ইসলামাবাদে সংঘর্ষ
পাকিস্তানের বাণিজ্যিক কেন্দ্র করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ চলাকালীন সংঘর্ষে ১০ জন নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। এছাড়া রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাসের দিকে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে আরও ২ জন বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছেন।

কূটনৈতিক মিশনে নিরাপত্তা ও সতর্কতা
পেশোয়ারসহ করাচি ও লাহোরে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটগুলোর নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। উদ্ভূত নিরাপত্তা সংকটের কারণে করাচি ও লাহোরের মার্কিন কনস্যুলেট সোমবারের সমস্ত ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং নাগরিক পরিষেবা বাতিল ঘোষণা করেছে।

পাকিস্তান সরকার সতর্ক করেছে যে, খামেনি হত্যার প্রতিবাদে চলমান এই গণবিক্ষোভ পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে।

উল্লেখ্য, ইরানের পর ইরাক ও পাকিস্তানেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশিসংখ্যক শিয়া মুসলিমের বসবাস।

টিজ/টিকে 

মন্তব্য করুন