ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন / খামেনিকে টার্গেটের পূর্বে সিকিউরিটি ক্যামেরা-ফোন হ্যাক করেছিলো ইসরায়েল
ছবি: সংগৃহীত
১০:৪৪ এএম | ০৩ মার্চ, ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার আগে তার চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নজরদারির জন্য বছরের পর বছর ক্যামেরা এবং মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক হ্যাক করেছে ইসরায়েল।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে ইরান ইন্টারন্যাশনাল এ তথ্য জানায়।
একাধিক বর্তমান ও সাবেক ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, তেহরানের প্রায় সব ট্রাফিক ক্যামেরা বহু বছর ধরে হ্যাক করা ছিল। ক্যামেরার ফুটেজ এনক্রিপ্ট করে তেল আবিব ও দক্ষিণ ইসরায়েলের সার্ভারে পাঠানো হতো।
একটি নির্দিষ্ট ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল বিশেষভাবে কার্যকর ছিল বলে জানানো হয়। এর মাধ্যমে দেহরক্ষীরা কোথায় ব্যক্তিগত গাড়ি পার্ক করতেন এবং পাস্তুর স্ট্রিটের নিকটবর্তী কম্পাউন্ডের ভেতরের রুটিন সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যেত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জটিল অ্যালগরিদম ব্যবহার করে খামেনির নিরাপত্তা রক্ষীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যভান্ডার তৈরি করা হয়। এতে তাদের ঠিকানা, ডিউটির সময়সূচি, কর্মস্থলে যাওয়ার পথ এবং কাকে সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্বে আছেন—এসব তথ্য যুক্ত করা হয়। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এটিকে 'প্যাটার্ন অব লাইফ' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এছাড়া পাস্তুর স্ট্রিটের আশপাশে প্রায় এক ডজন মোবাইল ফোন টাওয়ারের কিছু অংশে বিঘ্ন ঘটানো হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফলে ফোনে কল এলে সেটি ‘ব্যস্ত’ দেখাত এবং খামেনির নিরাপত্তা দলের সদস্যরা সম্ভাব্য সতর্কবার্তা পেতেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, হামলার অনেক আগেই আমাদের ধারণা ছিল খামেনি কোথায় অবস্থান করছেন কিংবা হামলার দিন কোথায় অবস্থান করবেন। মোসাদের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট সর্বক্ষণ এই মিশনে যুক্ত ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার দিন সকালে খামেনি ও শীর্ষ কর্মকর্তারা কম্পাউন্ডে উপস্থিত ছিলেন—এই তথ্য নিশ্চিত করতে হ্যাক করা ক্যামেরা ও মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে পাওয়া সিগন্যাল ইসরায়েলি ইন্টেলিজেন্স সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করে। একই সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনীও সহযোগিতা করেছে।
টিজে/টিকে