ইরানের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির কোনো প্রমাণ নেই: আইএইএ প্রধান
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৪২ এএম | ০৪ মার্চ, ২০২৬
যে অজুহাতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র, সেটি অভিযোগকে নাকচ করে দিল আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)।
সংস্থাটির প্রধান, মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি এনবিসি নিউজকে বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য ইরানের কোনো সমন্বিত কর্মসূচির প্রমাণ তারা পাননি। ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য কোনো সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত কর্মসূচির আলামত শনাক্ত হয়নি।
তবে তিনি বলেছেন, তেহরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যা বেসামরিক জ্বালানি চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। এই পরিমাণ সংগ্রহ কেবল পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলোরই রয়েছে।
গ্রোসি জোর দিয়ে বলেন, পরিদর্শক বা তদন্তকারীরা এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি যে ইরান বোমা তৈরির পরিকল্পনা করছে। যদিও ইউরেনিয়ামের বিশাল মজুদ গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। এই পরিমাণ ইউরেনিয়ামই আমাদের উদ্বেগের মূল কারণ। এসব ইউরেনিয়াম জমা করার ‘কোনো উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়’। তাত্ত্বিকভাবে এটি (ইউরেনিয়াম) ১০টিরও বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির জন্য যথেষ্ট, কিন্তু তাদের কাছে কি সেগুলো আছে? না, নেই।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে, এই যুদ্ধ প্রয়োজন ছিল ইরানের পরমাণু অস্ত্র বানানো ও দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি থামানোর জন্য।
যদিও ইরান বরাবরই পরমাণু অস্ত্র তৈরির ইচ্ছার কথা অস্বীকার করে আসছে। একই সঙ্গে মার্কিন-ইসরাইলি হামলাকে উসকানি ছাড়াই আগ্রাসন হিসেবে বর্ণনা করেছে তেহরান।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছিল। যদিও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ঠেকানোর জন্য যে চুক্তি ছিল সেখানে থেকে ২০১৮ সালে বেরিয়ে গেছেন ট্রাম্প। সমঝোতা চুক্তিতে সই করার মাত্র তিন বছরের মধ্যে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় ওয়াশিংটন।
এমআর/টিকে