লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত ১০
ছবি: সংগৃহীত
০৩:০০ পিএম | ০৪ মার্চ, ২০২৬
লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ দেশটির বেশ কয়েকটি এলাকায় হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাতভর চালানো এসব হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং আরও অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন।
ইরান আগ্রাসনের মধ্যে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের হাজমিয়েহ এলাকায় একটি আবাসিক বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। আজ বুধবার (৪ মার্চ) ভোরে কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই এই হামলা চালানো হয়। গুপ্তহত্যার লক্ষ্যে এই হামলা চালানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৈরুতের হাজমিয়েহ ও বাবদা এলাকার মধ্যে অবস্থিত হোটেলটি। এখনও হতাহতের নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইসরাইলি সেনাবাহিনী এখনও নির্দিষ্ট করে বলেনি যে, তারা কাকে বা কি লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।
এর আগে গত রাতভর হামলায় চলেছে আবাসিক ভবনে এবং দক্ষিণে সাদিয়াত নামে একটি গ্রামে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, এসব হামলায় ছয়জন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন।
এদিকে সিরিয়ার সীমান্তের কাছে অবস্থিত পূর্বাঞ্চলীয় শহর বালবেকে একটি হামলা হয়েছে। একটি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে হামলা হয়। এতে কমপক্ষে চারজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছে।
এদিকে ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননের আরও ১৩টি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের জন্য নতুন করে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। নতুন তালিকায় রয়েছে কানা, কেফার কিলা ও মাজদাল জাওনসহ আরও কয়েকটি এলাকা।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই আরও ১৬টি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের একই ধরনের সতর্কতা দেয়া হয়েছিল। তারও একদিন আগে ৫০টির বেশি বসতির মানুষকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেয় ইসরাইলি বাহিনী। ক্রমাগত এসব নির্দেশনায় দক্ষিণ লেবাননে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা চালিয়ে আসছে। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
জবাবে ইরান ইসরাইলের পাশাপাশি উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
এর মধ্যেই গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানায়, তারা উত্তর ইসরাইল ও ইসরাইল অধিকৃত সিরিয়ার গোলান মালভূমিতে তিনটি সামরিক ঘাঁটিতে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে লেবাননে হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইল। তারই জবাবে এই রকেট ও ড্রোন হামলা চালায় হিজবুল্লাহ।
এরপর ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করেছে। তাদের দাবি, উত্তরাঞ্চলের বসতিগুলোকে নিরাপদ রাখতে একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ তৈরি করাই এই অভিযানের লক্ষ্য।
এসএন