প্রয়োজন হলে মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজ সুরক্ষায় সামরিক এসকর্ট দেবে মার্কিন নৌবাহিনী: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৫৫ পিএম | ০৪ মার্চ, ২০২৬
ট্রাম্প বলেন, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের ‘অবাধ প্রবাহ’ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ওই অঞ্চলে কার্যরত সব শিপিং কোম্পানিকে ‘খুবই যুক্তিসংগত মূল্যে’ ঝুঁকি বিমা (রিস্ক ইনশিওরেন্স) দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজন হলে মধ্যপ্রাচ্যে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনী সুরক্ষা দেবে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সরবরাহ সংকট ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাঝখানে অবস্থিত এই সরু জলপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইরান জাহাজে 'আগুন ধরিয়ে দেওয়ার' হুমকি দেওয়ার পর ওই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
ট্রাম্প বলেন, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের 'অবাধ প্রবাহ' নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ওই অঞ্চলে কার্যরত সব শিপিং কোম্পানিকে 'খুবই যুক্তিসংগত মূল্যে' ঝুঁকি বিমা (রিস্ক ইনশিওরেন্স) দেবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব আশ্বাস কোম্পানিগুলোর উদ্বেগ কমাতে যথেষ্ট নাও হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়তে থাকায় গৃহস্থালি খরচের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি এ ঘোষণা দেন।
সোমবার এক ইরানি কর্মকর্তা হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা যে কোনো জাহাজে 'আগুন ধরিয়ে দেওয়ার' হুমকি দেন। এছাড়া ইরানি সামরিক বাহিনী ওই এলাকায় কয়েকটি জাহাজের ওপর গুলি চালিয়েছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে। এরপর থেকে কিছু বিমা কোম্পানি ওই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজের বিমা প্রিমিয়াম বাড়িয়ে দিয়েছে। লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলে এখন প্রায় ২০০টি অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্যবাহী ট্যাঙ্কার আটকে আছে।
মঙ্গলবার ট্রাম্প জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশনকে (ডিএফসি) নির্দেশ দিয়েছেন, তারা যেন উপসাগর দিয়ে চলাচলকারী সমস্ত সামুদ্রিক বাণিজ্য, বিশেষ করে জ্বালানি পণ্যের জন্য অত্যন্ত সুলভ মূল্যে 'রাজনৈতিক ঝুঁকি বিমা' ও গ্যারান্টি প্রদান করে। তিনি প্রয়োজন হলে 'যত দ্রুত সম্ভব' সামরিক পাহারার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
এই ঘোষণার পর তেলের দাম কিছুটা কমে আসে। এর আগে জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য ট্রাম্প জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল। তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পরও শিপিং বিষয়ক জার্নাল লয়েডস লিস্টের প্রধান সম্পাদক রিচার্ড মিড বলেন, সরবরাহ সংকটের পেছনে যে নিরাপত্তা উদ্বেগ কাজ করছে, তা ট্রাম্প কতটা সমাধান করতে পারবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লোহিত সাগরে হুথি হামলার কারণে অনেক শিপিং কোম্পানি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল বিকল্প পথে চলাচল বেছে নিয়েছে, যদিও সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ ছিল।
তিনি বলেন, 'শুধু বিমা থাকলেই যে জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করবে, এমন কোনো সময় আসেনি।' তিনি আরও বলেন, 'নৌ-এসকর্ট থাকলেই যে আপনি নিরাপদ, তা নয়।'
বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যেতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে পেট্রোলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যেতে পারে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দেশীয় উৎপাদন থাকায় বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কিছুটা কমে থাকে।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, ইরানের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে 'কিছু একটা করতেই হতো'। তিনি স্বীকার করেন, এতে কিছু সময়ের জন্য তেলের দাম বাড়তে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তিনি উড়িয়ে দেন। ট্রাম্প বলেন, 'এটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দাম কমে যাবে, আমার বিশ্বাস, আগের চেয়েও কমে যাবে।'
আইকে/টিএ