মিলিকে নামানোর পরিকল্পনা ২ মাস আগেই
ছবি: সংগৃহীত
০৮:২৫ পিএম | ০৪ মার্চ, ২০২৬
কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ নারী দলের গোলপোস্টের নিচে অটোচয়েস ছিলেন রুপনা চাকমা। এবারের এএফসি নারী এশিয়ান কাপেও বাংলাদেশের এক নম্বর গোলরক্ষক ছিলেন তিনি। কিন্তু মঙ্গলবার চীনের বিপক্ষে ম্যাচে দলের একাদশে মিলি আক্তারের নাম দেখে অবাক সবাই।
অভিজ্ঞ গোলরক্ষক রুপনাকে বাদ দিয়ে জাতীয় দলের হয়ে মাত্র এক ম্যাচ খেলা মিলিকে নামানোয় কোচ পিটার বাটলারের সমালোচনাও শুরু হয়। উচ্চতায় রুপনার চেয়ে এগিয়ে থাকা সেই মিলি চীনের বিপক্ষে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। অনভিজ্ঞ হলেও কখনও শূন্যে ভেসে, আবার কখনও বা ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিপক্ষের অনেক আক্রমণ প্রতিহত করেছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল থেকে উঠে আসা এ গোলরক্ষক।
ম্যাচে চীনের কাছে দুই গোলে হারলেও সবার প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই গোলরক্ষক। আর যাঁর কোচিংয়ে এই পর্যায়ে এসেছেন, সেই গোলরক্ষক-কোচ মাসুদ আহমেদ জানিয়েছেন, মিলিকে খেলানোর পরিকল্পনা দুই মাস আগেই নেওয়া ছিল। সিডনি থেকে বাফুফের পাঠানো ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশ গোলরক্ষক-কোচ বলেন, ‘মিলিকে নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা ছিল আরও দুই মাস আগে থেকে। চীনের বিপক্ষে তাকে দিয়ে শুরু করব– এটা হেড কোচের সঙ্গে আলোচনা করেই ঠিক করেছি। নারী লিগের সময় এবং আমার ট্রেনিং সেশনগুলোতেও সেভাবেই কাজ করেছি। চীনের শক্তির জায়গাগুলো বিশ্লেষণ করেছি, যেখানে মিলির উচ্চতা কাজে লাগানো যেতে পারে। সে প্রমাণ করেছে, সে ভালো খেলতে পারে।’

চীনের বিপক্ষে ম্যাচের পর আজ সিডনির জুবিলি স্টেডিয়ামে রিকভারি সেশন করে পিটার বাটলারের দল। সকালে ট্রেনিংয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেই পুরো দল ঘুরতে বের হয়। বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান সিডনি অপেরা হাউসের সৌন্দর্য উপভোগ করেন ঋতুপর্ণা চাকমা-আফঈদা খন্দকাররা। শুক্রবার উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে মানসিক সতেজতা বাড়াতেই দলের সদস্যরা ঘুরে এলেন সিডনির এই প্রতীকী স্থাপনায়। সিডনির রয়্যাল বোটানিক গার্ডেন হয়ে অপেরা হাউসে গিয়ে সময় কাটান সবাই। রুপনা-মিলিরা সেজেগুজে নানা ভঙ্গিতে ছবি তুলেছেন। কেউ কেউ ভিডিও ধারণ করতেও ভোলেননি।
র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের (১১২) চেয়ে ৯৫ ধাপ এগিয়ে থাকা চীনের (১৭) বিপক্ষে যে পারফরম্যান্স করেছেন মেয়েরা, তাতে সবাই খুশি। তারপরও সেই ম্যাচের ভুলভ্রান্তি নিয়ে আজ কাজ করা হয়েছে বলে জানান গোলকিপিং কোচ মাসুদ আহমেদ, ‘আজ আমরা পুরোপুরি রিকভারি সেশন করেছি। (চীন ম্যাচের) ভুলভ্রান্তি নিয়ে কাজ করছি। চীনের বিপক্ষে আমরা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পেরেছি। মেয়েরা মাঠে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। আমরা সব সময় বলি, আমরা মেয়েদের ভাষা বুঝি, কোচিং স্টাফ হিসেবে ওরা কতটা সিরিয়াসলি ও আন্তরিকভাবে আমাদের কথাগুলো নিচ্ছে– তারই প্রতিফলন দেখা গেছে মাঠে।’
এখন কোরিয়া ম্যাচেই সব মনোযোগ বলে জানান মাসুদ আহমেদ, ‘পরের ম্যাচটা আমাদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ। ভাগ্য সহায় হলে আর যদি একটি পয়েন্টও আনতে পারি, সেই লক্ষ্য নিয়েই মেয়েদের উজ্জীবিত করছি। উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে আজ ও কাল কাজ করব। আশা করি, মেয়েরা ভালো করবে।’
টিজে/টিএ