ছেলে ও নাতির বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ অভিনেতা শঙ্কর ঘোষালের
ছবি: সংগৃহীত
১০:০৫ পিএম | ০৪ মার্চ, ২০২৬
উত্তর কলকাতার গৌরীবাড়ি লেন। পরেশনাথ মন্দির পেরিয়ে সরু গলি, তারপর অন্ধকার সিঁড়ি বেয়ে তিনতলায় উঠলেই দু’কামরার একটি পুরনো ফ্ল্যাট। সময়ের ছাপ ধরা সেই চিলতে ঘরেই এখন বাস প্রবীণ অভিনেতা শঙ্কর ঘোষাল ও তাঁর পরিবারের। আর সেই ঘরই সাম্প্রতিক সময়ে পরিণত হয়েছে অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে।
মঙ্গলবার অভিনেতা অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে ও নাতি নিয়মিত তাঁকে মারধর করছেন। ঠিক মতো খেতে দেওয়া হয় না বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি ছেলের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে রক্তাক্ত হওয়ার কথাও জানান। নাতির বিরুদ্ধে ঘুষি মারার অভিযোগও তোলেন। এই অভিযোগ জানাতে তিনি পৌঁছেছিলেন মানিকতলা পুলিশ স্টেশন-এ। কিন্তু সেখান থেকেও যথাযথ সহযোগিতা পাননি বলে দাবি তাঁর। যদিও থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভিনেতার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই পরিবারের তরফে ভিন্ন সুর। স্ত্রী ভারতী ঘোষাল ও পুত্র এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, কোনও অত্যাচারের ঘটনা ঘটেনি। বরং শঙ্করবাবুর আচরণই দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার কারণ। পরিবারের বক্তব্য, এক সময়ে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় স্ত্রীকে মারধর করেছেন অভিনেতা। সেই ঘটনার চিত্র নাকি ছেলের কাছে সংরক্ষিত আছে। শঙ্করবাবুর আচরণে অতিষ্ঠ হয়েই পুত্রবধূ ঘর ছেড়েছেন বলেও দাবি পরিবারের।
দু’কামরার সেই ফ্ল্যাটে এক ঘরে থাকেন শঙ্করবাবু ও তাঁর স্ত্রী, অন্য ঘরে ছেলে ও নাতি। একই ছাদের নীচে থেকেও সম্পর্কের দূরত্ব যেন দিন দিন বেড়েছে। এক সময় ‘নহবৎ’ নাটকে অভিনয়ের সুবাদে পরিচিতি পেয়েছিলেন শঙ্করবাবু। কিন্তু খ্যাতির আলো দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সংসারের টানাপড়েন সামলাতে কখনও চাকরি, কখনও পাখি বিক্রি, কখনও শাড়ির ব্যবসা বহু লড়াইয়ের সাক্ষী তাঁর জীবন।
এখন সেই জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পারিবারিক অশান্তির অভিযোগে ফের আলোচনায় তিনি। কোনটা সত্যি, কোনটা অভিযোগ তা স্পষ্ট নয় এখনও। তবে গৌরীবাড়ির পুরনো সেই ফ্ল্যাটে যে সম্পর্কের টানাপড়েন চরমে উঠেছে, তা আর অস্বীকার করার উপায় নেই। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ভিড়ে প্রশ্ন একটাই এই পারিবারিক দ্বন্দ্বের শেষ কোথায়।
পিআর/টিএ