‘ভূত বাংলো’র গানে সত্যজিৎ রায়কে অবমাননা বিতর্কে মুখ খুললেন গায়ক আর্ভাণ
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৫৭ পিএম | ০৫ মার্চ, ২০২৬
বাঙালির সংস্কৃতির ভাঁজে ভাঁজে মিশে থাকা নাম সত্যজিৎ রায়। তাঁর সৃষ্ট ‘গুগাবাবা’ আর ‘আহা ভূত, বাহা ভূত’ আজও নস্টালজিয়ার সুর তোলে। সেই আবহেই বিতর্কে জড়াল ভূত বাংলো ছবির একটি গান। অভিযোগ, গানের কলিতে নাকি মিল রয়েছে সত্যজিতের সৃষ্টির সঙ্গে। আর সেই বিতর্কের কেন্দ্রেই এবার মুখ খুললেন গায়ক আর্ভাণ।
অভিনেতা অক্ষয় কুমার অভিনীত এই ছবির গান ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা। কেউ কেউ সরাসরি অবমাননার অভিযোগ তুলেছেন। তবে আর্ভাণের দাবি, গোটা বিষয়টি আসলে শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবেই ভাবা হয়েছিল। তাঁর কথায়, নির্মাতাদের পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছিল ভূত প্রসঙ্গে এমন কিছু করতে হবে, যা সম্মান জানাবে। সুর, রাগ, স্কেলের দিক থেকে দুটি গান সম্পূর্ণ আলাদা বলেই দাবি তাঁর। কেবল শেষের একটি শব্দগত মিলকে ঘিরেই এই বিতর্ক বলে মত গায়কের।

আর্ভাণ নিজেও বাঙালি। তাই প্রশ্ন উঠেছে, গানটি গাওয়ার সময় তাঁর আপত্তি হয়নি? উত্তরে তিনি জানান, যখন জানেন এটি শ্রদ্ধার্ঘ্য, তখন আপত্তির জায়গা দেখেননি। দৃশ্যায়ন নিয়ে যে আপত্তি উঠেছে, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি। কারণ, একজন প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে সেই সিদ্ধান্ত তাঁর হাতে থাকে না।
আরও এক ধাপ এগিয়ে আর্ভাণ বলেন, বর্তমান প্রজন্ম হয়তো সত্যজিতের সেই নির্দিষ্ট গানটির সঙ্গে পরিচিত নয়। বিতর্কের জেরে যদি তারা নতুন করে সেই সৃষ্টি শোনে, তাতেই তিনি খুশি। তাঁর বিশ্বাস, এই আলোচনার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্ম আবার ফিরে যেতে পারে পুরনো সৃষ্টির কাছে।
মুর্শিদাবাদের ছেলে আর্ভাণ দীর্ঘদিন ধরে মুম্বইয়ে কাজ করছেন। সুরকার প্রীতম-এর সঙ্গে একাধিক কাজে যুক্ত তিনি। প্রথমে অন্য রূপে তৈরি হলেও, পরে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল বলেও জানান গায়ক। তবু বিতর্ক থামেনি।
সংস্কৃতি, শ্রদ্ধা আর সৃজনের সীমারেখা কোথায় টানা উচিত এই প্রশ্ন আবারও সামনে এনেছে এই ঘটনা। বিতর্ক পেরিয়ে এখন নতুন গানের অপেক্ষায় আর্ভাণ। তবে আপাতত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর কণ্ঠে গাওয়া সেই গানই।
পিআর/টিএ