জুলাই গণ-আন্দোলনের নারীরা কোথাও নেই : সিপিবি
ছবি: সংগৃহীত
০৫:০৫ পিএম | ০৭ মার্চ, ২০২৬
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) আয়োজিত আলোচনাসভায় নারী নেত্রীরা বলেছেন, জুলাই গণ-আন্দোলনে নারীদের বিপুল অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগ অপরিহার্য ছিল। কিন্তু আন্দোলনের পরে সেই নারীরা রাষ্ট্র-রাজনীতি, সংস্কার আলোচনা ও সংসদ কোথাও নেই। ইতিহাসে বারবার একই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে চলেছে। যে বৈষম্য বিলোপের চেতনায় সহস্র মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছে, অল্প সময়ের মধ্যেই সেই বৈষম্য বিলোপের এজেন্ডা সব জায়গা থেকে বাদ পড়ে গেছে।
আজ শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার। নারী নেত্রী মাহমুদা দীপার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তৃতা করেন বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. আখতার বানু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দীপ্তি দত্ত, বাংলাদেশ বস্তিবাসী ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট কুলসুম বেগম, বাংলাদেশ কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা লাকি আক্তার, সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ নারী শাখার সম্পাদক মমতা চক্রবর্তী প্রমুখ।
সভায় ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, নারী দিবসে আমরা অবশ্যই নির্যাতনের কথা বলব, কিভাবে নির্যাতন প্রতিরোধ করা যায় সেটা আলোচনা করব। কিন্তু একই সাথে আমাদের দৈনন্দিন যে সংকট শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থানের সংকট নিরসনের কথাও বলতে হবে।
তিনি বলেন, যে কথাগুলো আমরা দেড় বছর আগে রাস্তা-ঘাটে মিছিলে মিছিলে শুনেছিলাম- বৈষম্য নিরসন করার কথা। গত দেড় বছরে কত কিছু ঘটে গেল কিন্তু বৈষম্য নিরসনের কথা আমরা আর শুনলাম না। ফলে রাস্তা-ঘাট জনপরিসরে, কর্মক্ষেত্রে এবং পরিবারে বৈষম্য যেমন ছিল তেমনই রয়ে গেছে। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।
সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার বলেন, নারীর সংগ্রামটা রাজনৈতিক এবং আগামীর বাংলাদেশ আমরা কেমন দেখতে চাই, সেটাও একটা রাজনৈতিক প্রশ্ন। নারী মুক্তি থেকে শুরু করে বৈষম্য বিলোপ এবং একটি গণতান্ত্রি সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণে, এই আদর্শিক অঙ্গীকার সম্পন্ন বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা ছাড়া ভিন্ন কোন পথ নেই। তিনি সকলকে সেই লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
এমআই/টিকে