রাজশাহীতে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৫০ পিএম | ০৭ মার্চ, ২০২৬
রাজশাহীতে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ওই সাংবাদিক হলেন আরআইএম গোলাম রাব্বানী। তিনি বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া উপদেষ্টা ও জার্নালিজম কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলেও তিনি কর্মরত আছেন তিনি। মামলাটি করেছেন তার প্রতিষ্ঠান স্কাই বাংলা নেট অনলাইন পোর্টালের সাবেক এক নারী সহকর্মী।
গত ৩ মার্চ রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানায় মামলাটি দায়ের হয়।
মামলার এজাহারে ওই নারী উল্লেখ করেন, গোলাম রাব্বানী স্কাই বাংলা নেট অনলাইন পোর্টাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছিলেন। ওই পোর্টালে ভুক্তভোগী ওই নারী সাংবাদিক কাজ করতেন। সহকর্মী হিসেবে ২০২৫ সালের ৪ জুলাই গোলাম রাব্বানী চন্দ্রিমা থানার পদ্মা আবাসিক এলাকার ৩২৯ নম্বর বাসায় স্কাইবাংলা নেট অফিসে তাকে ডেকে নেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় ওই নারী তার অফিস কক্ষে ঢুকলে একা পেয়ে শরীরে হাত দেন। এক পর্যায়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ওই নারী তখন ধস্তাধস্তি করে কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন এবং স্কাই বাংলা অনলাইনের কাজ ছেড়ে দেন।
পরবর্তী সময়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে আন্দোলনের মুখে তাকে অব্যাহতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এজাহারে আরও বলা হয়, পরে তিনি বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক রিলেশন অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগে কাউন্সিলর হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে মিডিয়া বিভাগের উপদেষ্টা এবং খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে চাকরি করতেন অভিযুক্ত রাব্বানী। ওই নারী প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন এবং সহকর্মীদের বিষয়টি জানান। এজন্য তাকে নানাভাবে হুমকি প্রদান ও হয়রানি করা হয়।
পরে গত ৩ মার্চ চন্দ্রিমা থানায় মামলা দায়ের করেন ওই নারী সাংবাদিক।
অভিযোগকারী নারী বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছি। কিন্তু পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তারে তৎপর নয়। নানা রকম টালবাহানা করে পুলিশ সময় পার করছে। কয়েক দফা থানায় গিয়েছি। পুলিশ বলে ওসি নাই। আসামি পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু অজুহাত দিয়ে যাচ্ছে। আসামিকে উচ্চ আদালত থেকে জামিনের সুযোগ করে দিতে এই গড়িমশি করছে।’
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত গোলাম রাব্বানীর ফোনে একাধিকবার কল করে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
চন্দ্রিমা থানার (ওসি) তদন্ত মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, 'মামলা রেকর্ড হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন।' মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আসাদুর রহমান বলেন, ‘পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছে। কিন্তু আসামি রাজশাহীতে নেই।’
এসএস/টিএ