© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

তদন্তে তথ্য না দেওয়ায় ডিসি সারোয়ারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ

শেয়ার করুন:
তদন্তে তথ্য না দেওয়ায় ডিসি সারোয়ারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:২৪ এএম | ০৮ মার্চ, ২০২৬
সিলেটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গোলাপগঞ্জে তাজউদ্দিন নামে এক যুবক নিহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য না দেওয়ার অভিযোগে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারোয়ার আলমের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১ মার্চ) সিলেটের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত- ১ এর বিচারক সুদীপ্ত তালুকদার এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি অনুমতি নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সংক্রান্ত নির্দেশনার কপিটি দেশের একটি গণমাধ্যমের কাছে সংরক্ষিত আছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গোলাপগঞ্জ উপজেলার ধারাবহর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে তাজউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি নিহত হন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রুলী বেগম গোলাপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেটকে।

তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক নূর মোহাম্মদ ঘটনার সময় এলাকায় দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নাম এবং কার নির্দেশে গুলি চালানো হয়েছিল এ সংক্রান্ত তথ্য জানতে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও বিজিবির শ্রীমঙ্গল সেক্টরের উপমহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিজিবি প্রয়োজনীয় তথ্য ও সদস্যদের তালিকা সরবরাহ করলেও জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

এ অবস্থায় তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি আদালত সিলেটের জেলা প্রশাসককে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো জবাব দেননি। পরবর্তী ধার্য তারিখগুলোতেও আদালতে কোনো ব্যাখ্যা জমা দেওয়া হয়নি বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হয়ে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করা শুধু বেআইনি নয়, বরং ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুতর বাধা। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধির ১৭৫, ১৭৯ ও ২১৭ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮৫ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, যেহেতু জেলা প্রশাসক একজন সরকারি কর্মকর্তা, তাই তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম শুরু করতে সরকারের ১৮৯৮ এর ১৯৭ ধারা মোতাবেক পূর্বানুমতি প্রয়োজন। এ কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি অনুমতি নিয়ে আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এমআই/টিকে

মন্তব্য করুন