রাইড শেয়ারিং চালকদের জন্য মোটরসাইকেলে তেল নেওয়ার সীমা বাড়ল
ছবি: সংগৃহীত
১১:৪৮ এএম | ১০ মার্চ, ২০২৬
মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিংকারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। এখন থেকে একজন মোটরসাইকেল চালক দিনে সর্বোচ্চ ৫ লিটারের বেশি অকটেন বা পেট্রোল নিতে পারবেন না।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের জনগণের ভয়-আতঙ্ক হ্রাস করার লক্ষ্যে জানানো যাচ্ছে যে, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে বিদেশ হতে আমদানি কার্যক্রম বা সূচি নির্ধারিত রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে পার্সেলে দেশে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ফিল্ডারদের সাময়িকভাবে প্রধান স্থাপন হতে সারাদেশের সকল ডিপোতে নিয়মিতভাবে রেল ওয়াগন বা ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে প্রেরণ করা হচ্ছে। জনগণের চাহিদা মোতাবেক জ্বালানি তেল সরবরাহ সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ-বিপিসি কর্তৃক কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী— এখন থেকে রাইড শেয়ারিংয়ের সাথে যুক্ত মোটরসাইকেল চালকরা দৈনিক সর্বোচ্চ ৫ লিটার অকটেন বা পেট্রোল নিতে পারবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে কিছু শর্তও জুড়ে দেয়া হয়েছে। যেমন- ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল গ্রহণের সময় মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিং অ্যাপে আবশ্যিকভাবে তেলের ধরণ, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে ক্রয় রশিদ প্রদান করতে হবে; ফিলিং স্টেশন হতে প্রতিবার জ্বালানি তেল গ্রহণের সময় পূর্ববর্তী ক্রয় রশিদ বা বিলের মূল কপি জমা প্রদান করতে হবে এবং সর্বশেষ মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও চালকের তথ্যাদি রাইড শেয়ারিং অ্যাপসের সাথে যাচাইপূর্বক জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশে সরকার নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি তেল ক্রয়-বিক্রয়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত মূল্য আদায় আইনত অপরাধ। দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যের স্থিতিতে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত দাম বজায় রাখা হয়। বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। এ অবস্থায় দেশের সব ভোক্তা বা ফিল্ডারদের অর্পিত নির্দেশনা অনুসরণ করে দেশের জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবারর সহযোগিতা কামনা করা হলো।
এর আগে গত শুক্রবার বিপিসির এক নির্দেশনায় বলা হয়, একটি মোটরসাইকেলে দিনে ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে নেওয়া যাবে ১০ লিটার তেল।
স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল বা এসইউভি (যা জিপ নামে পরিচিত) ও মাইক্রোবাস দিনে পাবে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল। পিকআপ বা লোকাল বাস দিনে ডিজেল নিতে পারবে ৭০ থেকে ৮০ লিটার। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল নিতে পারবে।
প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে গেছে। এতে দেশেও জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ফিলিং স্টেশনে ভিড় করছে এবং বেশি বেশি তেল কিনছে। তাই ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সরবরাহের সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বলছে, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ফুরিয়ে যায়নি। তবে অনেকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে তেল কিনছেন।
টিজে/টিকে