© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

যুক্তরাষ্ট্রের হারিয়ে যাওয়া ৬ পারমাণবিক বোমা নিয়ে আজও ধোঁয়াশা

শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্রের হারিয়ে যাওয়া ৬ পারমাণবিক বোমা নিয়ে আজও ধোঁয়াশা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:২৪ পিএম | ১১ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হারিয়ে যাওয়া ৬টি পরমাণু ওয়ারহেড নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে দেশটিতে। নিখোঁজ এসব পরমাণু ওয়ারহেড শত্রু দেশের হাতে পড়লে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর।

পারমাণবিক ওয়ারহেড মূলত ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট বা বোমার সামনের অংশে থাকে। অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরক একটি যন্ত্র, যা পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাত্মক শক্তি উৎপন্ন করে। এই পারমাণবিক ওয়ারহেডগুলোর যে কোনো একটি বিস্ফোরিত হলে একটি পুরো শহর ধ্বংস হয়ে যেতে পারে এবং লাখ লাখ মানুষ মারা যেতে পারে।

পারমাণবিক অস্ত্র দুর্ঘটনায় হারিয়ে যাওয়া বা দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ, এ ধরনের পারমাণবিক দুর্ঘটনাকে মার্কিন সামরিক পরিভাষায় ‘ব্রোকেন অ্যারো’ বলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দশকে অন্তত ৬টি এমন দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে।

যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র হারিয়ে গেছে। সেগুলোর কোনো হদিস আজও মেলেনি। আমেরিকার দৃষ্টিভঙ্গি হলো, তারা যদি তাদের হারানো বোমা খুঁজে না পায়, তবে শত্ররাও তা খুঁজে পাবে না। এখন পর্যন্ত ৩২টি ‘ব্রোকেন অ্যারো’ ঘটনার মধ্যে এখনো পর্যন্ত অন্তত ছয়টি পারমাণবিক ওয়ারহেডের হদিস পাওয়া যায়নি।

১৯৫৮ সালের একটি ঘটনা। টাইবি দ্বীপের কাছে একটি বি-৪৭ বোমারু বিমান সম্পূর্ণভাবে সজ্জিত মার্ক ১৫ হাইড্রোজেন বোমা বহন করছিল। সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাইলট আশঙ্কা করেন, বোমাটি বিস্ফোরিত হতে পারে। তিনি জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়ে জর্জিয়ার উপকূলের কাছে ওয়াসাউ সাউন্ডের পানিতে বোমাটি ফেলে দেন।

বি-৪৭ বিমানটিতে ৭ হাজার ৬০০ পাউন্ড ওজনের মার্ক ১৫ হাইড্রোজেন থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা ছিল। মার্ক ১৫ বোমার বিস্ফোরক ক্ষমতা ছিল ৩.৮ মেগাটন। তুলনা করলে দেখা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলায় ব্যবহৃত ফ্যাট ম্যানের চেয়ে এটি প্রায় ১৯০ গুণ বেশি শক্তিশালী ছিল। শতাধিক নৌবাহিনী সদস্য সোনারের সাহায্যে বোমাটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। দুই মাস অনুসন্ধান চালানোর পরও কিছুই পাওয়া যায়নি।

এয়ার ফোর্স তখন জানিয়েছিল, বোমার প্লুটোনিয়াম ওয়ারহেডটি উড্ডয়নের আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং সিসার বিকল্প দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত নথি দেখায়, টাইবি মার্ক ১৫ বোমাটি সত্যিই পুরো একটি পারমাণবিক বোমা ছিল। ১৯৬৬ সালে, দুটি মার্কিন সামরিক বিমানের সংঘর্ষের পর ভূমধ্যসাগরে একটি বি-২৬ থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা হারিয়ে যায় এবং এর ওয়ারহেড এখনো নিখোঁজ। ভূমধ্যসাগরের ওপর দুটি মার্কিন সামরিক বিমানের সংঘর্ষের পর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চারটি বি-২৮ থার্মোনিউক্লিয়ার বোমার মধ্যে এটি একটি। এই বি-২৮-এর তিনটি বোমা বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে একটি ওয়ারহেড এখনও পাওয়া যায়নি।

এদিকে মার্কিন হামলা এবং পূর্ববর্তী লক্ষ্যবস্তু মার্কিন-ইসরাইল অভিযানের ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি উল্লেখযোগ্যভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। তবে কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, তাদের সক্ষমতা পুনর্নির্মাণের জন্য এটি কেবল সময়ের ব্যাপার।

এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেফ্রি লুইস বলেছেন, ‘যদি এই হামলা কোনো শাসনব্যবস্থা অপসারণে সফল না হয়, তাহলে ইরানে হাজার হাজার মানুষ এই ধরনের কর্মসূচি পুনর্গঠন করতে সক্ষম থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিটি নিজেই কয়েক দশক পুরোনো এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ ইরান সম্ভবত উত্তর কোরিয়ার মতো একই সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে। যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এটি একটি বিপজ্জনক বিশ্ব এবং পারমাণবিক হওয়াই ভালো।’

আইকে/টিএ

মন্তব্য করুন