ইরানের স্কুলে হামলার দায় স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত
০৯:০৫ এএম | ১২ মার্চ, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রথম দিনে ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রায় ১৭৫ জন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র কার্যত নিজেদের দায় স্বীকার করে নিয়েছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ভয়াবহ এই হামলাটি ছিল মূলত মার্কিন বাহিনীর একটি লক্ষ্য নির্ধারণী বা টার্গেটিং ভুল। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ববর্তী দাবিটি মিথ্যা প্রমাণিত হলো, যেখানে তিনি এই হামলার জন্য ইরানকেই দায়ী করেছিলেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সম্ভবত কয়েক বছর আগের পুরোনো মানচিত্র বা তথ্যের ওপর নির্ভর করে এই হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করেছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, একটি মার্কিন 'টমাহক' ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি শাজারাহ তাইয়েবাহ নামের ওই বিদ্যালয়টিতে আঘাত হানে। তদন্তে আরও দেখা গেছে, স্কুলটি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি ঘাঁটির খুব কাছে অবস্থিত হওয়ায় এবং ভুল গোয়েন্দা তথ্যের কারণে এটি মার্কিন হামলার শিকার হয়।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, ট্রাম্প যেখানে এই ১৭৫ জন শিশু হত্যার দায় ইরানের ওপর চাপিয়েছিলেন, সেখানে মার্কিন সেনাবাহিনী নিজেই এখন স্বীকার করছে যে এটি আমেরিকারই আক্রমণ ছিল।
সামরিক তদন্তের এই ফলাফল সামনে আসার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সুর কিছুটা নরম করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তদন্ত পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ে আর কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করবেন না। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তার আগের অবস্থানে অনড় থেকে দাবি করেছেন যে, আমেরিকা কখনোই ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।
এমআই/এসএন