© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক নিয়োগের অভিযোগ মিয়া গোলাম পরওয়ারের, প্রতিবাদ

শেয়ার করুন:
৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক নিয়োগের অভিযোগ মিয়া গোলাম পরওয়ারের, প্রতিবাদ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:৪২ এএম | ১৬ মার্চ, ২০২৬
বিএনপি সরকারের সদ্য গঠিত ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

রোববার (১৫ মার্চ) তিনি এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। জনগণ মনে করছে, সদ্য গঠিত বিএনপি সরকার এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শুরুতেই জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে স্থানীয় সরকার পরিচালিত হওয়াই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। অথচ সরকার সুকৌশলে সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে একের পর এক প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে দলীয় ও আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণে নেয়ার অপচেষ্টা করছে।

এ সিদ্ধান্ত জনগণের ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটানোর পরিবর্তে নিয়োগনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষমতা সীমিত রাখার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য ভয়ংকর সংকেত। সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, সরকারের এই পদক্ষেপ আসলে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার নামে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার আরেকটি চেষ্টা। জনগণের ভোট ও মতামতকে উপেক্ষা করে প্রশাসক নিয়োগের এই অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আমরা মনে করি, এই সিদ্ধান্ত সরকারের জন্যই বুমেরাং হয়ে ফিরবে।

তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তোলা, গণহত্যার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার এগিয়ে নেয়া। এর প্রথম ধাপ হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তী প্রত্যাশা ছিল স্থানীয় সরকারগুলোতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত পাওয়া যাচ্ছিল।

তিনি উল্লেখ করেন, এমন পরিস্থিতিতে দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে সরকারদলীয় পদধারীদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সরকার জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। এটি নৈতিকভাবে অত্যন্ত গর্হিত এবং জনগণের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণার শামিল। এতে জনমনে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে, সরকারের এ পদক্ষেপ স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার একটি ষড়যন্ত্রের অংশ এবং একই সঙ্গে আরেকটি পাতানো নির্বাচনের প্রাথমিক ধাপ হতে পারে।

তিনি অবিলম্বে এই অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত বাতিল করে জেলা পরিষদে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব অর্পণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। বিবৃতিতে তিনি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় তাদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

টিজে/টিএ 

মন্তব্য করুন