© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বাড়ছে রডসহ নির্মাণসামগ্রীর দাম, উদ্বেগে আবাসন খাত

শেয়ার করুন:
বাড়ছে রডসহ নির্মাণসামগ্রীর দাম, উদ্বেগে আবাসন খাত

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:০৬ এএম | ১৭ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর দেশের বাজারে বেড়েছে নির্মাণ সামগ্রীর দাম। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে রডের দাম বেড়েছে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা কমে না এলে কাঁচামালসহ নির্মাণ সামগ্রীর দাম আরও বাড়তে পারে। এতে আবাসন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে দেশে রড, সিমেন্ট, বালি, পাথর ও ইটের দামও বেড়েছে। ইরানে ইসরায়েল ও মার্কিন হামলার পর নির্মাণ সামগ্রীর বাজার বিশ্লেষণে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিভিন্ন কোম্পানি সিমেন্টের দাম বাড়াচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কাঁচামাল সংকট তৈরি হয়েছে। ইট, পাথরসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রীর দামও কোম্পানিগুলো বাড়িয়ে দিয়েছে।

গত দুই সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে রডের দাম। প্রতি টনে রডের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত শুরুর আগে ৭৫ গ্রেডের রডের দাম প্রতি টন ছিল ৮০ থেকে ৮৩ হাজার টাকা। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৬ হাজার টাকায়। আর ৬০ গ্রেডের রডের দামও বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা।

পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে রডের দাম বেড়ে গেছে। আগে যে রড ৮৯ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা ৯০ টাকার ওপরে বিক্রি করতে হচ্ছে। বাজারে গাড়ির সংকট, জ্বালানির সমস্যা এবং মিল-কারখানার নানা জটিলতার কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে বিক্রিও কমে গেছে।

দাম বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শিল্প মালিকরা বলছেন, জাহাজ ভাড়াসহ রডের এক টন কাঁচামালের দাম আগে ছিল ৩৬০ মার্কিন ডলার। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পর তা বেড়ে ৪১০ ডলারের বেশি হয়েছে। এর সঙ্গে কাঁচামাল সংকট এবং ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহারও রয়েছে।

বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ মাসাদুল আলম মাসুদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্ক্র্যাপের দাম ৫০ থেকে ৬০ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে। স্থানীয় বাজারেও দাম বেড়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত মজুত নেই এবং আগের মতো শিপ ব্রেকারও পাওয়া যাচ্ছে না। মূলধনের ঘাটতির কারণে শিপ ব্রেকাররা যেমন আমদানি করতে পারছে না, তেমনি শিল্প মালিকরাও পারছেন না। ফলে এবার প্রভাব বেশি পড়েছে।

রড-সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ায় উদ্বেগে পড়েছেন আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা। রিহ্যাবের ভাইস-প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, এই খাতে এক ধরনের বিপর্যয় চলছে। যুদ্ধের অজুহাতে পাথর, রড, সিমেন্ট ও ইটসহ সব নির্মাণ সামগ্রীর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে রডের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু ফ্ল্যাটের দাম বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।

নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে আবাসন খাতে প্রভাব পড়ায় এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে কোনো পণ্য বা কাঁচামালের দাম বাড়লেও তা যেন অযৌক্তিক না হয়, সে বিষয়ে সরকারের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

টিজে/টিকে 

মন্তব্য করুন