বিকেলে অসুস্থ সন্ধ্যায় মৃত্যু, ঠিক কী হয়েছিল শামস সুমনের?
ছবি: সংগৃহীত
০২:৪৩ এএম | ১৮ মার্চ, ২০২৬
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন আর নেই। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গেলে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। চিকিৎসকদের ভাষ্য, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তার আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে।
অভিনেতার সহকর্মীরা জানান বিকেল পাঁচটার পর হঠাৎই অসুস্থতা অনুভব করেন শামস সুমন। পরে বিষয়টি তিনি সহকর্মীদের জানান। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকার গ্রিন রোড এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। হাসপাতাল থেকে অভিনেতা সুজাত শিমুল সংবাদমাধ্যমে জানান, চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণেই শামস সুমনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, নাট্য নির্মাতা রিপন রহমান ফেসবুক পোস্টে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শামস সুমনের মৃত্যুর বিষয়টি জানান।
অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয় ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আমাদের প্রিয় ভাই শামস সুমন আজ সন্ধ্যা ছয়টা ৪৩ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
সপ্তাহখানেক আগে হয়তো একসঙ্গে ইফতার করেছিলাম। মৃত্যুর আগের দুই মাস অনেক গল্প হয়েছে অনেক কিছু জেনেছি তার কাছে। তার জীবন অনেক কাছ থেকে দেখেছি। পবিত্র এই দিনে চলে গেলি ভাই। ইনশাল্লাহ ইনশাল্লাহ তুই বেহেস্তি।

অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ এক শোকবার্তায় জানায়, সংগঠনের বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদের সম্মানিত সহ-সভাপতি ও প্রিয় সহকর্মী শামস সুমন মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। সংগঠনটি তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। তারা আরও জানায়, মরহুমের জানাজার নামাজ বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল ১১টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।
এক সময়ের জনপ্রিয় টিভি নাটকের মুখ শামস সুমন মঞ্চ, ছোট পর্দা ও বড় পর্দা সব মাধ্যমেই দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে টেলিভিশন নাটকের মাধ্যমে তার যাত্রা শুরু হয়। দুই দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি অনিয়মিত ছিলেন।
২০১৩ সালে নায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত আয়না কাহিনী সিনেমায় সর্বশেষ অভিনয় করেন তিনি। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে মন জানে না মনের ঠিকানা, কক্সবাজারে কাকাতুয়া, চোখের দেখা, প্রিয়া তুমি সুখী হও, বিদ্রোহী পদ্মা, জয়যাত্রা, নমুনা ও হ্যালো অমিত। ২০০৮ সালে স্বপ্নপূরণ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। সর্বশেষ তাকে মিশন এক্সট্রিম সিনেমায় একজন পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে দেখা যায়।
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি রেডিও ভূমি- এর স্টেশন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া তিনি একটি টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠান বিভাগের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। শামস সুমনের আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মী, ভক্ত ও সংস্কৃতিমনাদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। তার অবদান ও অভিনয় দীর্ঘদিন স্মরণে রাখবে দর্শক।
এসকে/টিকে